হ্যাকের ক্ষতির ৯০ শতাংশ পূরণ করেছে বাইনান্স, রোববার অর্থ তোলা চালুর লক্ষ্য

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইনান্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের হ্যাকে চুরি যাওয়া ৬৩০ কোটি ডলারের (৪৭০ কোটি পাউন্ড) সম্পদের ৯০ শতাংশ ক্ষতি তারা পূরণ করেছে।
শনিবার দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বাকি ১০ শতাংশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ সম্পদ জোগাড় করতে আরও সময় লাগতে পারে।
বাইনান্স শুরু থেকেই ক্ষতির শতভাগ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। সেই লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি আলাদা করে রেখেছে বলে জানিয়েছে।
বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘চুরি যাওয়া অর্থের আর্থিক প্রভাব বাইনান্স নিজেই বহন করবে, আমাদের ব্যবহারকারীরা নয়।’
বাইনান্স জানিয়েছে, বিভিন্ন তহবিল ও নিজস্ব করপোরেট কোষাগার ব্যবহার করে তারা সম্পদগুলো আবার পূরণ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও টেদারের সব হোল্ডিং পূরণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বহুল লেনদেন হওয়া আরও সাতটি ক্রিপ্টো সম্পদের ক্ষতিও পূরণ করা হয়েছে।
বাইনান্সের পরের লক্ষ্য এখন ব্যবহারকারীদের অর্থ তোলার সেবা আবার চালু করা। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, রোববার ১ নভেম্বর অর্থ তোলা আবার চালু করার পথেই তারা রয়েছে এবং বিস্তারিত নিশ্চিত হলে পরবর্তী হালনাগাদ তথ্য দেওয়া হবে।
এই হ্যাকটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো হ্যাক বলে মনে করা হচ্ছে। এটি ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে হওয়া ১৫০ কোটি ডলারের আগের রেকর্ড হ্যাককেও ছাড়িয়ে গেছে।
বাইনান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল, একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ আক্রান্ত হওয়ার সুযোগে অননুমোদিতভাবে অর্থ তোলা সম্ভব হয়েছিল। তবে পরের হালনাগাদ তথ্যে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তারা ‘আরও কয়েকটি লঙ্ঘনের জায়গা’ খুঁজে পেয়েছে।
বাইনান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেছেন, হ্যাকটি একজনের বেশি ব্যক্তি চালিয়েছে এবং হামলাকারীরা নিজেদের চিহ্ন মুছে ফেলতে ‘সেলফ-ডেস্ট্রাক্ট মেকানিজম’-এর মতো জটিল পদ্ধতি ব্যবহার করেছে।
শুক্রবার বাইনান্স জানিয়েছিল, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে চুরি যাওয়া সম্পদের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার তারা জব্দ করতে পেরেছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, তদন্ত এখনো চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস শুক্রবার জানিয়েছে, বাইনান্স থেকে চুরি যাওয়া অর্থ শনাক্ত, জব্দ, অনুসরণ ও উদ্ধারে বেসরকারি খাতের অংশীদারদের সঙ্গে তারা ‘সার্বক্ষণিক’ কাজ করছে।
দুটি বড় ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান বলেছে, তাদের কাছে জোরালো গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে যে এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্র-সমর্থিত গোষ্ঠী ল্যাজারাস গ্রুপ, যা ট্রেডারট্রেইটর নামেও পরিচিত, থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) এর আগে বলেছিল, গত বছর বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে ১৫০ কোটি ডলার চুরির জন্যও উত্তর কোরিয়া দায়ী ছিল। তবে উত্তর কোরিয়া বরাবরই এ ধরনের হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে।
২০১৭ সালে চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইনান্সে ব্যবহারকারীরা ডিজিটাল সম্পদ কেনাবেচা ও লেনদেন করতে পারেন। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা কয়েকশ মিলিয়ন বলে ধারণা করা হয়।




