…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › শিক্ষা › খবর
শিক্ষা

নীলফামারীর ১৪ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল: ১৩৯ পরীক্ষার্থীর একজনও পাস করেনি এইচএসসিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নীলফামারী জেলার ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এর পাশাপাশি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে জেলার আরও দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া সব পরীক্ষার্থীও ফেল করেছে। সব মিলিয়ে জেলার ১৪টি প্রতিষ্ঠানের ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর শতভাগ ফেলের এই চিত্র উঠে এসেছে শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে।

শূন্য পাসের তালিকায় থাকা কলেজগুলো হলো নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজ, পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তারানিবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজ, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরি মঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও নয়ন খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ডোমার উপজেলার জামিরবারি মহিলা কলেজ ও বাগডোকড়া নিমোজখানা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জলঢাকা উপজেলার সমিরুদ্দিন আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ডিমলা উপজেলার আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও গয়াখড়িবাড়ি মহিলা কলেজ।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠান হলো সৈয়দপুরের পোড়াহাট ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা ও ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদরাসা। পোড়াহাট মাদরাসা থেকে সাতজন এবং পাঙ্গা চৌপথী মাদরাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন; তাদের কেউই পাস করতে পারেননি।

ফলাফল প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কেউ কেউ বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ বেতন-ভাতার সংকটকে এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ফেল করা অনেক প্রতিষ্ঠানের বিল-বেতনই এখনো চালু হয়নি।

নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজের প্রভাষক সারিউল ইসলাম বলেন, ‘২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি চলমান রয়েছে; এমন ফলাফল এর আগে হয়নি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল-বেতন এখনো খোলেনি। কলেজের ৩৭ জন স্টাফ আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ আবুল কালাম বলেন, ‘আমাদের মাদরাসা থেকে এবার ১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে। পর্যাপ্ত গুরুত্ব সহকারে সবাইকে পাঠদান করার পরেও এবারের ফলাফল কেন এমন হলো, বুঝতে পারছি না। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী এক বিষয়ে ফেল করেছে; আমরা বোর্ড চ্যালেঞ্জ করার পরিকল্পনা নিয়েছি।’

এমন ফলাফলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। মনিরুজ্জামান নামের এক অভিভাবক বলেন, ‘একটা কলেজে ৪০ বা ৫০ জন অংশ নিয়ে সবাই ফেল করবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। যদি সামান্য কয়েকজন পাস করত, এরপরও বিষয়টা মেনে নেওয়া যেত যে তারা চেষ্টা করেছে।’ স্থানীয়দের একাংশ ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফেলের পেছনে প্রতিষ্ঠানগুলোর উদাসীনতাকেও দায়ী করছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন ধরেননি বলে জানা গেছে।

জেলার সামগ্রিক চিত্রটাও উদ্বেগজনক। ২০২৫ সালে নীলফামারী জেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৬৩.৭১ শতাংশ; ২০২৬ সালে তা কমেছে ১৩.৭৯ শতাংশ পয়েন্ট। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হারের এই বড় পতনের মধ্যেই এসেছে ১৪টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ ফেলের খবর।

শিক্ষা বিভাগের আরও খবর

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্য এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা সম্ভাব্য ২ ডিসেম্বর থেকে, ফল ৩১ ডিসেম্বর
শিক্ষা

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের জন্য এইচএসসি সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা সম্ভাব্য ২ ডিসেম্বর থেকে, ফল ৩১ ডিসেম্বর

এইচএসসি পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের জন্য সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষ…

এইচএসসিতে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে পাস ৯৯.৯৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন
শিক্ষা

এইচএসসিতে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে পাস ৯৯.৯৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন

সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবারও দুর্দান্ত ফল করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। প্রতিষ্ঠান…

শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা বাস্তবে রূপ দিতে সরকার পাশে থাকবে: মোহাম্মদপুরের কর্মশালায় ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীল প্রস্তাবের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা চিহ্নিত করা এবং সেগুলোর বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করতে…

শিক্ষা

দিনাজপুর বোর্ডের জেলাভিত্তিক এইচএসসি ফল: শীর্ষে রংপুর, সব জেলায় ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে মেয়েরা

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার জেলাভিত্তিক ফলাফলে বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে। বোর্ডের প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আটটি জ…