যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত, শনিবার নিহত অন্তত চার ফিলিস্তিনি
গাজায় শনিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে তথাকথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার ইসরায়েল গাজায় বেশ কয়েকটি হামলা চালায়, যার মধ্যে নুসেইরাত শরণার্থীশিবিরে গোলাবর্ষণও ছিল। ওই হামলায় ফিলিস্তিনি শিক্ষক দিয়া আবু আল-রৌস নিহত হন বলে আল-আওদা হাসপাতাল নিশ্চিত করেছে।
আলাদা ঘটনায় আরাফাত আল-আরাইর নামের আরেক ব্যক্তি মারা গেছেন। কয়েক দিন আগে গাজা সিটির দক্ষিণ-পশ্চিমের তেল আল-হাওয়া এলাকায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আল-শিফা হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া খান ইউনিসের আল-মাওয়াসিতে বাস্তুচ্যুতদের একটি শিবিরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি তাঁবুতে আগুন লেগে আহত দুই মেয়ে শনিবার মারা গেছে। নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আগুন লাগার কারণ স্পষ্ট নয়।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, গত ৪৮ ঘণ্টায় উপত্যকাটিতে অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৮০ জনে।
শনিবার প্রকাশিত দৈনিক পরিসংখ্যান প্রতিবেদনে মন্ত্রণালয় জানায়, একই সময়ে আরও ২৬ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১ হাজার ৫৮০ ফিলিস্তিনি নিহত ও ৫ হাজার ৭১১ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর) শুক্রবার সতর্ক করে বলেছে, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করা অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের কর্মকাণ্ড জাতিগত নিধনের উদ্বেগ তৈরি করছে।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ফিলিস্তিনিদের ক্রমে উপত্যকাটির সংকুচিত একটি এলাকায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে; তিন বছরের ইসরায়েলি অবরোধে গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার অবশিষ্ট বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করছে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মে মাসের নির্দেশ অনুসরণ করে উপত্যকাটির ৭০ শতাংশ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ বিস্তারে কাজ করছে।
দেইর আল-বালাহ থেকে আল জাজিরার তারেক আবু আজ্জুম জানিয়েছেন, ইসরায়েল বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে তাদের দেইর আল-বালাহ শহর থেকে বাস্তুচ্যুত করতে চাইছে। তিনি বলেন, শহরটির পূর্বাংশ থেকে বাড়ি ছেড়ে আসা মানুষের সাক্ষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে হলুদ সীমানারেখা সরিয়ে তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার আওতায় গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের আলোচনা থমকে আছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে বিরোধের কারণে পুনর্গঠনের কাজও এখনো শুরু হয়নি।
হামাস বলছে, ইসরায়েল গাজা থেকে পুরোপুরি সরে না গেলে তারা পুরোপুরি নিরস্ত্র হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাস অস্ত্র ত্যাগ না করলে তারা উপত্যকাটি ছাড়বে না।




