নভেম্বরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের পরিকল্পনা: বিমানমন্ত্রী
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আগামী মাসে উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বিমানবন্দরটির উদ্বোধনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর থেকে তিন মাসব্যাপী কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভ্যাল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এসব উদ্যোগ দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে এবং কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ভূমিকা রাখবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের টেকসই বিকাশ, আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান সুদৃঢ় করতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্মিলিত উদ্যোগ ও কার্যকর অংশীদারত্ব অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং পর্যটনসেবার মানোন্নয়নে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেস্টিনেশন’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এবারের মেলা বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী। পর্যটনশিল্প এখন শুধু ভ্রমণ ও অবকাশযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কার্যকর ব্যবহার পর্যটন ব্যবস্থাপনাকে আরও সহজ, দ্রুত ও দক্ষ করে তুলতে পারে। পর্যটন গন্তব্যের ব্যবস্থাপনা, পর্যটকদের নিরাপত্তা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর ফলে পর্যটকদের অভিজ্ঞতা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি এই খাতের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও বাড়বে।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পর্যটন খাতে সহযোগিতা জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে দেশের বিমান চলাচল অবকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবার আধুনিকায়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণসেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বিদেশি বিনিয়োগকারী ও পর্যটনশিল্পের অংশীজনদের বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগের এবং দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মানুষের আতিথেয়তা উপভোগ করার আমন্ত্রণ জানান।
মন্ত্রী জানান, সরকার ইতিমধ্যে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ করছে। এই মহাপরিকল্পনায় বিভিন্ন শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্যের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এসব পর্যটনকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকারী ও পর্যটন খাতের অংশীজনদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়নে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ট্যুর অপারেটরদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নিবন্ধনসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের বিষয়ে ট্যুর অপারেটরদের উত্থাপিত সুপারিশ ও প্রস্তাবগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রয়োজনীয় ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখে ট্যুর অপারেটরদের পেশাগত কার্যক্রম সহজতর করা এবং পর্যটনশিল্পের বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ থেকে অর্জিত আয়ের বিপরীতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে উপস্থাপন করা হবে। এই খাতের বৈদেশিক আয় অর্জনের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে নিরাপদ, টেকসই, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিল্পে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি খাতের পারস্পরিক সহযোগিতা, অংশীদারত্ব ও অভিন্ন অঙ্গীকারের কোনো বিকল্প নেই। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের অপার সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করে তিনি এই খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নুরুন্নাহার চৌধুরীসহ মন্ত্রণালয় ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।




