দুই বছরের বিরতির পর নতুন চেহারায় ফিরলেন ‘আমেরিকান আইডল’ খ্যাত বো বাইস

লম্বা চুলের রকার চেহারাটাই ছিল তাঁর পরিচিতি। সেই চেনা ছবি বদলে একেবারে নতুন রূপে হাজির হয়েছেন ‘আমেরিকান আইডল’-খ্যাত গায়ক বো বাইস। ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা তাঁর নতুন চেহারা দেখে ভক্তদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—কেউ প্রশংসা করেছেন, কেউ আবার পুরোনো চেহারাটাই ফেরত চেয়েছেন।
নতুন ছবিতে বাইসের চুল আগের চেয়ে অনেক ছোট। চোখে সানগ্লাস, গলায় পরপর কয়েকটি নেকলেস আর বোতাম খোলা নকশাদার শার্ট—সব মিলিয়ে তাঁর চিরচেনা সাউদার্ন রকার ভাবমূর্তি থেকে একেবারে আলাদা এক উপস্থিতি।
বাইস নিজে বিষয়টিকে হালকা মেজাজেই নিয়েছেন। তিনি ‘তখন ও এখন’ ধাঁচের একটি বিভক্ত ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে এক পাশে তাঁর পুরোনো লম্বা চুলের চেহারা আর অন্য পাশে নতুন রূপ। ছবির ক্যাপশনে রসিকতা করে তিনি লিখেছেন, ‘আচ্ছা আচ্ছা, টিংকারবেল... ওই লোকটা কে?!’ ছবিটিতে লেখা ছিল ‘একেবারে নতুন মানুষ · পুনরুত্থান ২০২৭’।
তবে সব ভক্ত নতুন রূপটি ভালোভাবে নেননি। একজন ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, চেহারাটা অনেকটাই আলাদা হলেও নেকলেসগুলো বাদ দিয়ে শার্টের বোতাম লাগালেই ভালো হতো। আরেকজন আরও কড়া ভাষায় লিখেছেন, নতুন চেহারাটা তাঁর একেবারেই পছন্দ হয়নি, যদিও বাইসের গান শুনতে তাঁর ভালো লাগে।
অন্যদিকে সমর্থকের সংখ্যাও কম নয়। একজন লিখেছেন, ‘দারুণ লাগছে! ফিরে আসায় খুশি হলাম!’ আরেকজনের মন্তব্য, ‘তখনো ভালো লাগত, এখনো ভালো লাগছে। রক চালিয়ে যাও!’ তৃতীয় এক ভক্ত লিখেছেন, ‘চলো বো!! তখনো তোমার পক্ষে ছিলাম, এখনো আছি!!’
চেহারা বদলের পাশাপাশি বড় খবর হলো তাঁর সংগীতে ফেরার ইঙ্গিত। দুই বছর ধরে তিনি নতুন কোনো গান প্রকাশ করেননি। নিজের পোস্টে বাইস লিখেছেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, দুই বছরে জীবনে কত কিছু বদলে যায়।’ তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সর্বশেষ প্রকাশিত কাজ ছিল ‘বর্ন অব হিরোজ ব্লাড’, যা হলিউড ইন্ডিপেনডেন্ট মিউজিক অ্যাওয়ার্ডসে বছরের সবচেয়ে প্রভাবশালী গানের পুরস্কার পেয়েছিল এবং তিনি নিজে পেয়েছিলেন কণ্ঠশিল্পীর স্বীকৃতি।
নিজের অতীতের ঝলক আর ভবিষ্যতের আভাস একসঙ্গে তুলে ধরে তিনি লিখেছেন, ‘নতুন জীবন, নতুন স্টাইল, কিন্তু একই সাউদার্ন আত্মা’ নিয়ে তিনি ফিরছেন, সঙ্গে হ্যাশট্যাগ ‘একেবারে নতুন মানুষ’।
বো বাইস খ্যাতি পান ২০০৫ সালে ‘আমেরিকান আইডল’-এর চতুর্থ মৌসুমে। সেবার তিনি রানার-আপ হয়েছিলেন, চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন ক্যারি আন্ডারউড। তাঁর রুক্ষ অথচ আবেগী কণ্ঠ, সাউদার্ন রক ধাঁচ আর কাঁধছোঁয়া লম্বা চুলই তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল—যে পরিচিতির বড় অংশই এবার বদলে গেল।




