নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বে আরও দুটি সন্দেহভাজন ইবোলা কেস, আইসোলেশনে দুই রোগী
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আরও দুটি সন্দেহভাজন ইবোলা কেস শনাক্ত হয়েছে। দেশটি এক দশকের বেশি সময় পর প্রথম ইবোলা কেস ঘোষণা করার পর নতুন এই কেস দুটি পাওয়া গেল।
নাইজেরিয়া সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (এনসিডিসি) শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইবোলা রোগের দুটি সন্দেহভাজন কেস শনাক্ত হয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, দুজনকেই আইসোলেশনে রাখা হয়েছে, তাঁদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্ত ও তালিকাভুক্ত করার কাজ চলছে এবং পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এনসিডিসি জোর দিয়ে বলেছে, ‘সন্দেহভাজন কেস হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁরা নিশ্চিত ইবোলা রোগী; নিশ্চিত হওয়া পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে।’
নাইজেরিয়া গত ২০ অক্টোবর এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম ইবোলা কেস ঘোষণা করে। গত সপ্তাহে আমদানি করা একটি কেসের মধ্য দিয়ে দেশটি ইবোলার বুন্ডিবুগিও ধরনে আক্রান্ত পঞ্চম দেশ হয়ে ওঠে।
ওই কেসে একজন সুইস নারী উগান্ডা থেকে নাইজেরিয়ায় ভ্রমণ করে এসে ভাইরাসটিতে পজিটিভ হন। তিনি ও তাঁর স্বামী, যিনি একজন সুইস কূটনীতিক, সোমবার সুইজারল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়া হন।
বর্তমান প্রাদুর্ভাবটি গত মে মাসে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) শুরু হয়। বুন্ডিবুগিও ধরনটি তখন থেকে ডিআরসিতে ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।
এটি ডিআরসির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইবোলা প্রাদুর্ভাব। দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে ৮টি আক্রান্ত হয়েছে এবং নিশ্চিত কেসের সংখ্যা ১০ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে।
এই ধরনটির জন্য এখনো অনুমোদিত কোনো চিকিৎসা বা টিকা নেই, তবে টিকার পরীক্ষা চলমান রয়েছে।
আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) শুক্রবার সামনের সারির স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় আরও জোরালো ব্যবস্থার আহ্বান জানিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডিআরসির উত্তর কিভু ও ইতুরি প্রদেশে দুই তরুণ কঙ্গোলিজ চিকিৎসক ইবোলায় মারা যাওয়ার পর এই আহ্বান আসে।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও সংস্পর্শ অনুসন্ধানের দুর্বলতাই বর্তমান সংক্রমণ থামানোর পথে প্রধান বাধা। ডিআরসিতে নিশ্চিত কেসের মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ আগে থেকে জানা সংস্পর্শের মধ্যে থেকে শনাক্ত হয়েছে এবং অনেক মৃত্যু ঘটছে সমাজের মধ্যেই।
গত মে মাস থেকে বুন্ডিবুগিও ধরনের কেস পাওয়া গেছে ডিআরসি, উগান্ডা, ফ্রান্স, কেনিয়া এবং সর্বশেষ নাইজেরিয়ায়।

