বগুড়ায় পুলিশের ভ্রমণভাতা আত্মসাৎ: ২৭ জন দেড় কোটির বেশি ফেরত দিলেও এখনো বাকি প্রায় দেড় কোটি, অডিটর বরখাস্ত

বগুড়া জেলা পুলিশের ভ্রমণভাতা (টিএ) বিল-ভাউচার জালিয়াতি করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত ৩১ পুলিশ সদস্যের মধ্যে ২৭ জন এরই মধ্যে দেড় কোটির বেশি টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে বাকি চার পুলিশ সদস্য ও হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলমের কাছে এখনো প্রায় দেড় কোটি টাকা রয়ে গেছে, যা তাঁরা এখনো ফেরত দেননি।
এ ঘটনায় হিসাবরক্ষণ অফিসের পাঁচজনের সংশ্লিষ্টতা শনাক্ত করেছে মহাহিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের গঠন করা তদন্ত কমিটি। তাঁদের মধ্যে অডিটর ফিরোজ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে অপর চার কর্মচারীকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের গঠন করা চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসাদুজ্জামান বলেছেন, তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের ব্যাংক হিসাব যাচাই-বাছাই করেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
আসাদুজ্জামান জানান, আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ আদায়ের কৌশল হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের টাকা ফেরত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই সুযোগে ২৭ জন পর্যায়ক্রমে দেড় কোটির বেশি টাকা ফেরত দিয়েছেন। তবে পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলামসহ চার পুলিশ সদস্য টাকা ফেরত না দিলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
আত্মসাতের অভিযোগে টাকা ফেরত দিয়েছেন, এমন কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাকরি বাঁচানোর তাগিদে তাঁরা টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের দাবি, ব্যাংক হিসাবে পাঠানো টাকা তুলে এর বড় অংশ হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলম ও পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলামকে দিতে হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এক বছর ধরে পুলিশ অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিসের একটি চক্র পুলিশ সুপারের কম্পিউটার আইডি ব্যবহার করে পুলিশ সদস্যদের টিএ বিল-ভাউচার জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল। গত ১৯ আগস্ট সকালে বিষয়টি পুলিশ সুপার মীর্জা সায়েম মাহমুদের নজরে আসে।
এরপর পুলিশ অফিসের হিসাব সহকারী রাজিবুল ইসলাম ও হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিটর ফিরোজ আলমকে সন্দেহভাজন হিসেবে রেখে ২৬ আগস্ট চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। তদন্ত কমিটির কাছে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা রাজিবুল ইসলাম ও ফিরোজ আলমের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
পরে অডিটর ফিরোজ আলমকে বগুড়া থেকে প্রত্যাহার করে রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে মহাহিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের চিফ অ্যাকাউন্টস অফিসার মামুন উল মান্নানের নেতৃত্বে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা বগুড়ায় এসে বিষয়টি তদন্ত করেন।
বগুড়া জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আছাদুজ্জামান সরকার বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অডিটর ফিরোজ আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার কারণে হিসাবরক্ষণ অফিসের আরও চার কর্মচারীকে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।
আছাদুজ্জামান সরকার বলেন, সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে অডিটর ফিরোজ আলম একাই জড়িত। তবে তিনি এখনো আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত দেননি। অপর চার কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।



