নিউমার্কেটের ফুটপাতে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, বসানো হলো শতাধিক গাছের চারা

রাজধানীর নিউমার্কেটের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এই অভিযান চালানো হয়। পরে হকারদের বসা ঠেকাতে ফুটপাতে শতাধিক গাছের চারা বসিয়ে দেয় সংস্থাটি।
বেলা তিনটার দিকে পূর্বঘোষিত উচ্ছেদ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশ হিসেবে নিউমার্কেট এলাকায় আসেন ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম। শুরুতে নিউমার্কেটের বিপরীত পাশে প্রিয়াঙ্গন শপিং কমপ্লেক্সের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এরপর আজিমপুর-সংলগ্ন নিউমার্কেটের ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, ফুটপাতে অভিযান শুরু হতেই হকাররা তাঁদের মালামাল ও সরঞ্জাম নিয়ে সড়কের বিপরীত পাশে সরে যান। সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে ফুটপাতে থাকা কয়েকটি চৌকি ভেঙে ময়লার গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক জনতার ভিড়ের মধ্যে অনেক হকারকেও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
অভিযান পরিচালনার পর নিউমার্কেটের ২ নম্বর গেট থেকে ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত ফুটপাতে বস্তা ও ড্রামে লাগানো প্রায় শতাধিক গাছের চারা বসিয়ে দেওয়া হয়।
বেলা সাড়ে তিনটার পর কর্মীরা যখন ৪ নম্বর গেটের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন আজিমপুর-সংলগ্ন ইউটার্নের ফুটপাতে আবার কয়েকজন হকার বসার চেষ্টা করেন। পরে ডিএসসিসির কর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে গিয়ে তাঁদের চৌকিগুলো সরিয়ে দেন।
বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযান শেষ করে এলাকা ত্যাগ করেন কর্মীরা। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত উচ্ছেদ করা অংশে আর কোনো হকারকে বসতে দেখা যায়নি।
অভিযানের শুরুতে এক প্রশ্নের জবাবে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম সাংবাদিকদের বলেন, নিউমার্কেট এলাকার ফুটপাত ও সড়ক হকারমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। যত দিন দখল হবে, তত দিন অভিযান চলবে।
আবদুস সালাম বলেন, ‘আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধ করছি, যাতে তাঁরা রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে কোনো ধরনের ব্যবসা পরিচালনা না করেন। এরপরও কেউ যদি রাস্তা দখল করে বসেন, তবে তাঁদের মালামাল জব্দসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
স্থানীয় নেতাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সহযোগিতায় নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনোভাবেই সড়কের ওপর অবৈধভাবে কেউ বসতে না পারেন।
অভিযান শেষে বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ‘অভিযানের অংশ হিসেবে নীলক্ষেত মোড়সংলগ্ন নিউমার্কেটের ১ নম্বর গেট থেকে চন্দ্রিমা সুপার মার্কেট-সংলগ্ন ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত মূল রাস্তা ও ফুটপাত এবং প্রিয়াঙ্গন সুপার মার্কেট থেকে নীলক্ষেত মোড় পর্যন্ত মূল রাস্তা সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হয়।’
তবে সরেজমিন দেখা যায়, সংস্থাটি মূলত নীলক্ষেত মোড়সংলগ্ন নিউমার্কেটের ২ নম্বর গেট থেকে ৪ নম্বর গেট পর্যন্ত অভিযান চালিয়েছে। নিউমার্কেটের ১ ও ৩ নম্বর গেট এলাকায় তখনও হকারদের দোকান বসানোর সরঞ্জাম রয়ে গিয়েছিল।

