হবিগঞ্জের মাধবপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার, ফোনালাপের সূত্রে তিন বছর পর হত্যার রহস্য, গ্রেফতার ৪

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রামনগর গ্রামে নিখোঁজ হওয়ার তিন বছর পর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বত আলী নামের এক যুবকের কঙ্কাল উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মহব্বত আলী রুসমত আলীর ছেলে। একটি ভাইরাল ফোনালাপের সূত্র ধরে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রামনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে কঙ্কালটি উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন একই গ্রামের শাহ আলম (৩৪), তাঁর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৩৪), প্রতিবেশী জয়নাল মিয়া (২১) ও ইয়াছিন মিয়া (২৪)।
পুলিশ জানায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই মহব্বত আলী নিখোঁজ হন। ওই বছরের ১৮ আগস্ট নিহতের বাবা মাধবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সে সময় মাদক-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ছয়জনকে গ্রেফতার করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে কোনো সূত্র পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ তিন বছর পর সম্প্রতি এক ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়ার সময় অভিযুক্ত শাহ আলমের একটি ফোনালাপ ডিবির হাতে আসে। ওই ফোনালাপে শাহ আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘মহব্বতকে খাইছি, তোরেও খাইমু।’ এই অডিও রেকর্ডটিই তদন্তে নতুন মোড় আনে। এর ভিত্তিতে গত শুক্রবার রামনগর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শাহ আলমসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁরা জানান, শাহ আলমের ভাতিজির সঙ্গে মহব্বতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে মহব্বত শাহ আলমের স্ত্রী জাহানারা বেগমের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহানারা বেগম কৌশলে মহব্বতকে নিজের বাড়িতে ডেকে আনেন। এরপর বাড়িতে লোকজনের আগমন টের পেয়ে তাঁকে একটি ওয়ার্ডরোবের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে গ্রেফতারকৃতদের বর্ণনায় উঠে এসেছে।
হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পর তাঁর মরদেহ বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় আসামিরা। পরে গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই সেই সেপটিক ট্যাংক থেকে মহব্বতের কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, উদ্ধার করা কঙ্কালটি বর্তমানে ডিবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। গ্রেফতারকৃত চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, নিহত মহব্বতের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা ছিল এবং স্থানীয় কিছু মাদক কারবারির সঙ্গেও তাঁর বিরোধ চলছিল। তবে নিখোঁজের দীর্ঘ তিন বছর পর মূল রহস্য উদঘাটিত হলো বলে পুলিশ জানিয়েছে।



