বর্ষায় শাপলা আর পাখির মেলায় মুখর মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল, আয়তন ১ লাখ ৬৭ হাজার একর

আকাশে সাদা-কালো মেঘের ভেলা, আর নিচে দিগন্তজোড়া পানির বুকে দুলছে শাপলা, সালুক আর কচুরিপানা—বর্ষায় এমনই রূপ নেয় মুন্সিগঞ্জের আড়িয়াল বিল। চারদিকে সবুজের সমারোহের মধ্যে কখনো মাছরাঙার ডুব, কখনো বকের আনাগোনা আর পাখির ডাকে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ।
ঢাকার কাছেই প্রকৃতির কোলে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে এই জলাভূমি ঘুরে আসার মতো জায়গা। বর্ষায় বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ভরে ওঠে, হালকা বাতাসে পানির ওপর তৈরি হয় ছোট ছোট ঢেউ, আর তার সঙ্গে দুলতে থাকে ভাসমান জলজ উদ্ভিদ।
বিলের নানা প্রান্তে দেখা মেলে শঙ্খচিল, মাছরাঙা, ডাহুক ও কানিবকসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির। প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের কাছে এই সময়টা বিশেষ উপভোগ্য বলে জানা যায়।
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, আড়িয়াল বিল স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং জীববৈচিত্র্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানকার দেশীয় মাছের সুনাম রয়েছে।
শীতকালে পানি নেমে গেলে বিস্তীর্ণ জমিতে চাষ হয় নানা ধরনের ফসল ও সবজি। মিষ্টি কুমড়ার জন্যও পরিচিত এই এলাকা। অর্থাৎ বর্ষায় যে জায়গা জলে ভরা জলাভূমি, শীতকালে তারই অনেকটা জুড়ে দেখা যায় সবুজ ফসলের খেত।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা এবং ঢাকার নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলার কিছু অংশ জুড়ে রয়েছে আড়িয়াল বিল। বর্তমানে বিলের জমির পরিমাণ এক লাখ ৬৭ হাজার একর।
বিস্তীর্ণ এই জলাভূমিতে ছোট-বড় অসংখ্য জলাধার, ডোবা ও পুকুর রয়েছে। সাগরদিঘি, কালাচান দিঘিসহ বিভিন্ন দিঘি এই এলাকার প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, এক সময় এই বিলের নাম ছিল চুড়াইন বিল। আড়িয়াল খাঁ নদীর নাম অনুসারে পরে এর নাম হয় আড়িয়াল বিল।
যাওয়ার উপায়ও কঠিন নয়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে শিমুলিয়াগামী বাসে উঠে শ্রীনগরের ছনবাড়ি স্ট্যান্ডে নামা যায়, জনপ্রতি ভাড়া ৬০ টাকা। সেখান থেকে শ্রীনগর বাজার বা গাদিঘাট এলাকার ট্রলারঘাটে গিয়ে বিল ঘোরার জন্য ট্রলার ভাড়া করা যায়।
সারা দিন ঘোরার জন্য ট্রলারের ভাড়া প্রায় চার হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। তবে যাত্রার আগে বাসের ভাড়া, রুট ও ট্রলারের বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নেওয়া ভালো।
আবহাওয়া ও পানির অবস্থার ওপর নির্ভর করে বিলের চেহারা বদলাতে পারে। ট্রলারে ঘোরার সময় স্থানীয় মাঝির নির্দেশ মেনে চলা, লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা এবং জলাভূমির পরিবেশ নোংরা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




