তিন দশকের বেশি সময় ধরে উচ্চশিক্ষায় ইউএসটিসি, যাত্রা শুরু চট্টগ্রামের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে

তিন দশকের বেশি সময় ধরে উচ্চশিক্ষায় অবদান রেখে চলেছে ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগং (ইউএসটিসি)। বন্দরনগরী চট্টগ্রামের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।
প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্ন ছিল মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা। প্রতিষ্ঠানটি সেই লক্ষ্য ধরে আধুনিক ও বিশ্বমানের উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে চলেছে বলে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট বিবরণে বলা হয়েছে।
ইউএসটিসির চিকিৎসা শিক্ষায় অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এর ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড হেলথ সায়েন্সেস (আইএএইচএস) ১৯৮৯ সালে মাত্র ৪২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এই প্রতিষ্ঠান দক্ষ চিকিৎসক তৈরির পাশাপাশি পেশাগত নৈতিকতা, মানবিকতা ও গবেষণামুখী দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।
ইউএসটিসিতে বাংলাদেশসহ নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, নরওয়ে, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন ও সুদানের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করেছেন এবং করছেন। বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এখানে বহুসাংস্কৃতিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি, ফার্মেসি, ব্যবসায় প্রশাসন এবং ইংরেজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান চলছে। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তায় জোর দেওয়া হচ্ছে।
স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ, ইন্টারঅ্যাকটিভ ফ্ল্যাট প্যানেল, মাল্টিমিডিয়া প্রযুক্তি, উচ্চগতির ইন্টারনেট, প্রকৌশল ও গবেষণাগার, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার, বিভাগীয় সেমিনার লাইব্রেরি, আধুনিক অডিটরিয়াম এবং আবাসিক সুবিধা রয়েছে। বিতর্ক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, গবেষণা, উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা এবং সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমও শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত হয়।
উচ্চশিক্ষার পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএসটিসি আউটকাম বেসড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) পাঠক্রম পর্যালোচনা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষণ পদ্ধতির আধুনিকায়ন এবং একাডেমিক মানোন্নয়নে কাজ করছে। বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের (বিএসি) অধীনে অ্যাক্রেডিটেশন কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
গবেষণার ক্ষেত্রে ইউএসটিসি রিসার্চ সেল (ইউআরসি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গবেষণা অনুদান, আন্তবিভাগীয় গবেষণা, আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশনা, গবেষণা প্রকল্প এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নেচার ইনডেক্সে অন্তর্ভুক্তি গবেষণায় এর আন্তর্জাতিক উপস্থিতির একটি দিক।
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক এবং সহযোগিতার মাধ্যমে ইউএসটিসি আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণ করছে। যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও সেমিনার এই সহযোগিতার অংশ।
ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা, বায়োটেকনোলজি ও প্রকৌশলসহ ক্ষেত্রগুলোতে গবেষণার পরিধি আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানটির বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।


