বাসি রুটি কি সত্যিই ডায়াবিটিসে উপকারী, যা বলছেন পুষ্টিবিদেরা

রাতে বেঁচে যাওয়া রুটি সকালে গরম করে খাওয়ার অভ্যাস অনেক পরিবারেই রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি উঠেছে, টাটকা রুটির চেয়ে বাসি রুটি নাকি ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য বেশি উপকারী। এমনকি এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে—এমন কথাও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, এই দাবির পেছনে আংশিক সত্য থাকলেও বিষয়টিকে ডায়াবিটিসের চিকিৎসা হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
পুষ্টিবিদদের মতে, রুটি তৈরি হওয়ার পর ঠান্ডা করে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রাখলে তাতে থাকা স্টার্চের কিছু অংশ ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’-এ রূপ নিতে পারে। এই ধরনের স্টার্চ সাধারণ শর্করার মতো দ্রুত হজম হয় না, বরং অনেকটা ফাইবারের মতো আচরণ করে। ফলে তা খাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। সে কারণেই ঠান্ডা করে রাখা রুটির গ্লাইসেমিক প্রভাব টাটকা রুটির তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে বলে মনে করা হয়।
রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের আরও কিছু সম্ভাব্য উপকারের কথা বলছেন পুষ্টিবিদেরা। এটি হজম হতে সময় নেয় বলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকার অনুভূতি দিতে পারে, ফলে ঘন ঘন খিদে পাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে। পাশাপাশি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পুষ্টি জোগাতেও সাহায্য করে এই উপাদান। তবে বাসি রুটি খেলেই ওজন কমে যাবে কিংবা ডায়াবিটিস নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে—এমন ধারণা ঠিক নয় বলে স্পষ্ট করেছেন তারা।
রুটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রান্নার পর দীর্ঘ সময় ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফেলে রাখলে তাতে জীবাণু বা ছত্রাক জন্মানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ঝুঁকি আরও বাড়ে। তাই রুটি ঠান্ডা হলে দ্রুত ঢাকনাযুক্ত পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখতে হবে এবং খাওয়ার আগে ভালোভাবে গরম করে নিতে হবে। গন্ধ, রং বা চেহারায় অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা গেলে সেই রুটি না খাওয়াই ভালো।
রুটির সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে, সেটিও রক্তে শর্করার ওপর প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত ঘি, তেল বা মিষ্টি খাবারের সঙ্গে রুটি খেলে তার সামগ্রিক পুষ্টিগুণের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর বদলে সবজি, ছোলা, ডাল কিংবা চিনি ছাড়া টক দইয়ের মতো খাবারের সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে রুটি খাওয়া যেতে পারে। সাধারণ সাদা আটার বদলে গোটা গমের আটা কিংবা অন্যান্য শস্য মিশিয়ে তৈরি রুটিও খাদ্যতালিকায় রাখা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাসি রুটি ডায়াবিটিসের কোনো চিকিৎসা নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে খাবারের পরিমাণ ও ধরন ঠিক রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়া জরুরি। তাই শুধু বাসি রুটির ওপর ভরসা না করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকেই নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা।




