এইচএসসিতে পাস ৫২.১২ শতাংশ: ইংরেজি ও আইসিটিতে বেশি ফেল, ফেল করা বিষয়ে এক-দুই মাসে ফের পরীক্ষার সুযোগ

এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ইংরেজিতে ফেল করেছে ৪৩ হাজার ৫২৮ জন শিক্ষার্থী এবং আইসিটিতে ফেল করেছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৪৯৩ জন। এই দুটি বিষয়ই পাসের হারে ধস নামিয়েছে বলে ফল পর্যালোচনায় উঠে এসেছে।
সর্বশেষ ২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। তারপর আর কখনো পাসের হার এত নিচে নামেনি।
অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা পুনরায় এক থেকে দুই মাসের মধ্যে, যে যতগুলো বিষয়ে ফেল করেছেন, ততগুলো বিষয়েই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন। এই নতুন সংযোজন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সময় ও মানসিক অস্থিরতা এবং অভিভাবকদের ওপর চাপ কমাবে বলে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে।
ফলের দীর্ঘমেয়াদি চিত্রে বড় ওঠানামা দেখা যায়। ১৯৯০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার ফলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ছিল ১৯৯৬ সালে ২৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ। করোনাকালে পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নে ২০২০ সালে পাসের হার হয়েছিল ১০০ শতাংশ।
২০২৪ সালে ৯টি সাধারণ বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার গড় পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৫৭ দশমিক ১২ শতাংশে। এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশের মতো।
পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, পাঠ্যসূচি শেষ করতে পারা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি ফলাফলে প্রভাব ফেলে। শুধু পাসের হারের পরিসংখ্যান দিয়ে কোন বিষয় কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না।
শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এবার তিনবার প্রশ্ন সংশোধন করা হয়েছে। প্রশ্ন তৈরি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া থেকে মূল্যায়ন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বের হয়ে মানের দিকে এগোচ্ছে বলেও পর্যালোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগের অনেক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি পড়তে এবং ক্লাস করতে চান না বলে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে। তাঁরা বাজারের নোটের সাজেশন এবং প্রাইভেট বা কোচিংয়ের সাজেশন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেন। লিখিত অংশের প্যারাগ্রাফ, লেটার বা অ্যাপ্লিকেশন নিজে থেকে লেখার অভ্যাসও অনেকের মধ্যে নেই।
কলা ও বাণিজ্য বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে ইংরেজিই পাস-ফেলের নিয়ামক। এই বিষয়ে দুর্বল থাকায় তাঁরা বেশি ফেল করেন। এবারও তাই ঘটেছে বলে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ক্লাস ঠিকমতো করে নির্দিষ্ট অধ্যায়গুলো বুঝে পড়লে ইংরেজিতে ফেল করার কারণ থাকে না বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইসিটিতে ফেলের ক্ষেত্রে শিক্ষকসংকটের বিষয়টি উঠে এসেছে পর্যালোচনায়। সাহায্যকারী বই ব্যবহার করেও পাস করা সম্ভব হলেও শিক্ষার্থীদের অবহেলার কারণে এই দুটি বিষয়ে ফেল বেশি হয়েছে বলা হয়েছে।
বোর্ডভিত্তিক ফলে ঢাকা বোর্ড পাসের হারে শীর্ষে রয়েছে। বরিশাল বোর্ড ৪৪ শতাংশ পাসের হার নিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে আছে।
পর্যালোচনার শেষ কথা, বিশ্বায়নের এই যুগে যে বিষয়েই পড়াশোনা করা হোক না কেন, সবাইকে ইংরেজি ও আইসিটিতে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। উচ্চশিক্ষায় যাচ্ছেন এমন শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এই দুটি বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া একটি সংকেত, যার অর্থ বুঝতে হবে।




