পটুয়াখালীতে চায়ের দোকানে পাঠাগার গড়লেন ইমন, তিন শতাধিক বই নিয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

এক হাতে চায়ের কাপ, অন্য হাতে বই — পটুয়াখালীতে এমন দৃশ্যই এখন দেখা যাচ্ছে একটি চায়ের দোকানে। তরুণদের মাদক ও মোবাইল ফোনের আসক্তি কমিয়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে নিজের চায়ের দোকানেই ব্যতিক্রমী একটি পাঠাগার খুলেছেন ২৭ বছর বয়সী চা দোকানি স্বপ্নীল হাসান ইমন।
ইমন পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়া এলাকার বজলুর রহমানের ছেলে। দারিদ্র্যের কারণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিতে না পারলেও ছোটবেলা থেকেই বই পড়তে ভালোবাসেন তিনি। অল্প বয়সে অন্তত এক হাজারটি বই পড়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।
শুধু পাঠক নন, ইমন লেখকও। তিনি লিখেছেন ‘আমি এবং আপনার ছদ্মবেশ’ ও ‘কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়’ নামের দুটি কবিতার বই। এর একটি আগেই প্রকাশ হয়েছে; অন্যটি আগামী বইমেলায় পাওয়া যাবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
প্রায় তিন মাস আগে পটুয়াখালী শহরের ফেরিঘাট এলাকায় নিজের চায়ের দোকানের এক পাশে ছোট এই পাঠাগারটি গড়ে তোলেন ইমন। সেখানে গল্প, উপন্যাস ও কবিতার অন্তত তিন শতাধিক বই রয়েছে।
চা পানের সঙ্গে বই পড়তে প্রতিদিন বিভিন্ন বয়সী মানুষ ইমনের দোকানে ভিড় করছেন। এলাকার মানুষের প্রশংসাও পাচ্ছে উদ্যোগটি।
কলাপাড়া পৌর শহরের নাচনাপাড়ার মো. শাহিন বলেছেন, এটি একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। তাঁর ভাষায়, ইমনের দোকানে তাঁরা প্রায়ই আসেন এবং বই পড়েন; চা খেতে খেতে গল্প কিংবা উপন্যাস পড়া দারুণ এক অনুভূতি। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় সরকারি উদ্যোগে পাঠাগার নির্মাণের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এতিমখানা এলাকার বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন বিকেলে বন্ধুরা মিলে ইমনের দোকানে বসে চা খান ও বই পড়েন। আগে চা খেতে খেতে প্রায় সময় মোবাইল ফোন দেখলেও এখানে এসে বই পড়তে পেরে ভালো লাগে বলে জানান তিনি। মোবাইল আসক্তি কমাতে ইমনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাইফুল।
পাঠাগারটি বড় পরিসরে গড়তে চান ইমন। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেছেন, দারিদ্র্যের কারণে তিনি লেখাপড়া করতে পারেননি, তবে ছোটবেলা থেকে বই পড়ার প্রতি অনেক ঝোঁক ছিল। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পাঠাগার বড় করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে তিনি সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা চেয়েছেন।


