হুতি হেফাজতে জাতিসংঘ কর্মীর মৃত্যু, জরুরি তদন্তের দাবি মানবাধিকার প্রধানের

ইয়েমেনে হুতিদের হেফাজতে থাকা জাতিসংঘের এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক।
নিহত কর্মীর নাম মোহাম্মদ এল শামি। তিনি ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ে কাজ করতেন। হাইকমিশনারের কার্যালয় শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ জুন থেকে হুতিরা তাঁকে ‘মনগড়াভাবে আটক’ করে রেখেছিল।
বিবৃতি অনুযায়ী, শামির পরিবার জানিয়েছে তিনি এক মাসেরও বেশি আগে মারা গেছেন, কিন্তু পরিবারকে সম্প্রতি বিষয়টি জানানো হয়েছে।
টুর্ক শামির মৃত্যুকে জাতিসংঘের জন্য ‘হৃদয়বিদারক ক্ষতি’ বলে উল্লেখ করে তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, শামির মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবার ‘কোনো ব্যাখ্যাই’ পায়নি। হুতি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন তিনি।
টুর্ক বলেছেন, এ ঘটনায় সব প্রাসঙ্গিক চিকিৎসা ও আটকের নথি প্রকাশ, প্রমাণ সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর যে কারণই বলা হোক না কেন তার স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, অনিয়মের জন্য জবাবদিহি থাকতেই হবে।
অন্য আটক জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন টুর্ক। তিনি বলেছেন, তাঁর কার্যালয়ের সাত সহকর্মীসহ আরও জাতিসংঘ কর্মী এখনো আটক রয়েছেন; আটক মানবিক ও সুশীল সমাজের কর্মীদের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। তাদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির জন্য আবারও আবেদন জানিয়েছেন টুর্ক।
ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী শায়া আল-জিনদানি এই মৃত্যুর নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এর পূর্ণ দায় হুতিদের। তিনি আরও বলেছেন, ৭০ জনের বেশি জাতিসংঘ কর্মী এবং কয়েক ডজন মানবিক কর্মী এখনো হুতিদের হেফাজতে রয়েছেন।
২০২৪ সালের জুনে হুতিরা বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি ‘গুপ্তচর নেটওয়ার্কের’ সদস্য বলে অভিযুক্ত কয়েকজনকে ইয়েমেনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনে নতুন করে আক্রমণ চালিয়ে এলাকা দখল করেছে; আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে তাদের লড়াই তীব্র হয়েছে। সৌদি আরব গোষ্ঠীটির অগ্রযাত্রা ঠেকাতে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে; জবাবে হুতিরা সৌদি শহর ও জাহাজ চলাচলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধও ঘোষণা করেছিল।
গত মাসে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হয়েছিলেন বলে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।




