নিজেদের টাকায় মাঠ কেনা বাবুপুরবাসীর পাশে প্রধানমন্ত্রী: সম্প্রসারণে জমি কিনে দেবে সরকার, বাজেট প্রস্তাব ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের চাঁদার টাকায় খেলার মাঠের জন্য জমি কেনার পর এবার তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। প্রধানমন্ত্রী মানবিক কারণে বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য জমি কিনে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে।
বাবুপুর গ্রামে শিশু-কিশোরদের জন্য খেলার মাঠ না থাকায় ক্রীড়াচর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল গ্রামের শিশু থেকে যুবকরা। পরে গ্রামের ধনী-গরিব সবাই মিলে চাঁদা তুলে, সেই টাকা দিয়ে খেলার মাঠের জন্য জমি ক্রয় করেন। এতে করে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হয় গ্রামবাসীর।
সেই খবর পৌঁছেছে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর কাছে। বাবুপুর গ্রামের বাসিন্দাদের এমন উদ্যোগে গড়ে ওঠা খেলার মাঠ আরও সম্প্রসারণে জমি কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গ্রামবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে মাঠের পাশের অতিরিক্ত জমি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কিনে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাবুপুরবাসীর উদ্যোগে খেলার মাঠ তৈরির ভিডিও ফুটেজ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। বিষয়টি দেখার পরপরই তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা পাওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবকে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়। গ্রামবাসীর উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে এবং সেখানে একটি পরিপূর্ণ ও আধুনিক খেলার মাঠ গড়ে তুলতেই সরকার অতিরিক্ত জমি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস বাবুপুর গ্রামে। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য কোনো স্থায়ী মাঠ ছিল না। এই সংকট দূর করতে গ্রামের তরুণ ও উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসেন। তাদের উদ্যোগে এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত আর্থিক সহযোগিতায় ৬০ শতাংশ জমি কেনা হয়। সম্প্রতি সেই জমিতে খেলার মাঠের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনও করা হয়েছে।
বাবুপুরবাসীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজরে আসে। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, মাঠ সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য প্রায় ৪ কোটি ৪১ লাখ টাকার একটি সামগ্রিক বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আমিনুল হক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেশের অন্যান্য গ্রামেও এমন উদ্যোগে উৎসাহ জোগাবে। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণে বাবুপুরের মতো প্রতিটি গ্রামে খেলাধুলার সুস্থ পরিবেশ গড়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

