রাজধানীতে রড টনপ্রতি ৮৬-৯৪ হাজার টাকা, নির্মাণসামগ্রীর দামে বাড়ি তৈরির বাজেটে চাপ
রাজধানীর বাজারে বাড়ি নির্মাণের প্রধান উপকরণ রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর দামে ভিন্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। কোথাও দাম আগের তুলনায় বেড়েছে, আবার কোথাও সরবরাহ ও মানভেদে দামে পার্থক্য রয়েছে। এতে নতুন ভবন নির্মাণ কিংবা পুরোনো বাড়ি সংস্কারের পরিকল্পনা করা মানুষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে রড ও সিমেন্টের দামের ওঠানামা নির্মাণকাজের মোট ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একটি ভবন নির্মাণে মোট ব্যয়ের বড় অংশই যায় রড, সিমেন্ট, ইট ও বালু কেনায়, ফলে এসব পণ্যের দামে সামান্য পরিবর্তন হলেও পুরো প্রকল্পের ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের সাম্প্রতিক দর অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮৬ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায়। তবে রডের গ্রেড ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে এই দাম আরও বেশি হতে পারে।
৬০ গ্রেডের এমএস রডের দাম প্রতি টন ৯২ হাজার ৫০০ থেকে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৪০ গ্রেডের রডের দাম ৮৯ হাজার থেকে ৯১ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।
সিমেন্টের দামেও পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫২০ থেকে ৫৬০ টাকায়। তবে ব্র্যান্ড ও দোকানভেদে কিছু সিমেন্ট ৫১০ থেকে ৫১৫ টাকাতেও পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিমেন্টের দাম সাধারণত ৪৭৫ থেকে ৫২০ টাকার মধ্যে থাকলেও বিশেষ ব্র্যান্ড বা বিক্রয়কেন্দ্রভেদে দাম বেশি হতে পারে।
ইটের বাজারেও মানভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। রাজধানীতে প্রথম শ্রেণির প্রতি হাজার ইটের দাম প্রায় ১৩ হাজার থেকে ১৪ হাজার টাকা। দ্বিতীয় শ্রেণির ইট বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস প্রায় ১২ টাকায়। তবে ইটের আকার, মান, উৎপাদনস্থল ও পরিবহন খরচের কারণে বাজারে দামের তারতম্য দেখা যায়।
বালুর ক্ষেত্রেও ধরন ও উৎস অনুযায়ী দামের পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে মোটা বালু প্রতি ঘনফুট প্রায় ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বস্তা ফেরত দিলে কিছু ক্ষেত্রে এই দাম ৩০ টাকায় নেমে আসে। পাকশী বালু প্রতি ঘনফুট ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং ভরাটের বালু প্রতি বস্তা ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, নির্মাণসামগ্রীর দাম নির্ধারণে উৎপাদন ব্যয়, কাঁচামালের মূল্য, পরিবহন খরচ, জ্বালানি ব্যয় ও সরবরাহ পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পড়ে রড, সিমেন্ট, ইট ও বালুর খুচরা বাজারে। এ ছাড়া নির্মাণসামগ্রীর মান, ব্র্যান্ড এবং বিক্রয়কেন্দ্রের অবস্থানও দামের পার্থক্য তৈরি করে।
নির্মাণ খাতে এসব উপকরণের দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েন ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাড়ি নির্মাণকারীরা। কারণ তাদের পুরো প্রকল্পের বাজেটই এসব উপকরণের দরের ওপর নির্ভর করে।
বাজারে দামের পার্থক্য থাকায় নির্মাণকাজ শুরুর আগে একাধিক বিক্রয়কেন্দ্র থেকে দর যাচাই করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে রডের গ্রেড, সিমেন্টের ব্র্যান্ড, ইটের মান এবং বালুর ধরন নিশ্চিত হয়ে কেনাকাটা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে উল্লেখিত দামগুলো ঢাকার বাজারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন দরতথ্য ও বিক্রয়কেন্দ্রভিত্তিক হিসাবের ওপর নির্ভরশীল। এলাকা, পরিবহন খরচ, পণ্যের মান ও সরবরাহ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রকৃত বাজারদরে পার্থক্য হতে পারে।


