সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় দরপতন পুঁজিবাজারে, ডিএসইএক্স কমল ৩২ পয়েন্ট
দেশের পুঁজিবাজারে মূল্যসূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রবিবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর হ্রাসের সঙ্গে সবকটি মূল্যসূচকে পতন ঘটেছে।
সূচকের অবনমনের পাশাপাশি ডিএসইতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণও সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ডিএসইতে শেষ ছয় কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ দিন এবং সিএসইতে চার কার্যদিবসেই দরপতনের চিত্র দেখা গেল।
লেনদেনের শুরুর আধা ঘণ্টায় ক্রেতাদের সক্রিয়তায় সূচকের কিছুটা ইতিবাচক গতি দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। প্রথম ৩০ মিনিট পার হওয়ার পর থেকেই বাজারে তীব্র বিক্রয়চাপ শুরু হয়, ফলে দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক কোম্পানি দরপতনের তালিকায় যুক্ত হতে থাকে। দিনের শেষভাগে বিক্রয়প্রবণতা আরও বাড়লে বড় দরপতনের মধ্য দিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৫১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ১৯০টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির বাজারদর।
নিয়মিত লভ্যাংশ প্রদানকারী ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৯৪টির দর বাড়লেও কমেছে ৯০টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে ২৯টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ৩৬টির। লভ্যাংশ প্রদানে ব্যর্থ ‘জেড’ গ্রুপের কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৮টির দাম বাড়লেও কমেছে ৬৩টির এবং ৩২টির দর অপরিবর্তিত থাকে।
তবে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে উল্টো চিত্র দেখা গেছে; এদিন ৩০টি ফান্ডের দর বাড়ার বিপরীতে মাত্র একটির দর কমেছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের কারণে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শীর্ষ ৩০ প্রতিষ্ঠান নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৮ পয়েন্ট হারিয়ে নেমেছে ২ হাজার ৬৮ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৪ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে অবস্থান নিয়েছে ১ হাজার ৪৫ পয়েন্টে।
সূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে সার্বিক লেনদেন নেমে এসেছে ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৫৬৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার চেয়ে ৮২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা কম।
ডিএসইতে একক লেনদেনে শীর্ষস্থান দখল করেছে মতিন স্পিনিং, যার মোট ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২০ লাখ টাকার এবং ১৪ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল।
এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় জায়গা করে নেয় ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, সোনালী আঁশ, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, নাহি অ্যালুমেনিয়াম, ফাইন ফুডস এবং এনভয় টেক্সটাইল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ১৮০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৫টির দাম বাড়লেও কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দর। এতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮২ পয়েন্ট কমেছে, তবে বাজারটিতে লেনদেনের পরিমাণ সামান্য বেড়ে ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকায় ঠেকেছে।



