আনোয়ারায় খাসখামা গ্রামে তিন ঘরে আগুন, ভূমি বিরোধ ঘিরে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নে তিনটি ঘরে আগুন লেগেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভূমি বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিত্যক্ত গোয়াল ঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, প্রতিবেশীরাই তাদের ঘরে আগুন দিয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডে, আলী মিয়ার বাড়িতে।
আগুনে জামাল আহমদ, নজরুল ইসলাম সোনামিয়া ও আবু মনসুরের ঘর পুড়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ তিন পরিবারের ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ আড়াই লাখ টাকা। রোববার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবেশীর সঙ্গে আগের জমি বিরোধের জের ধরে এই আগুন দেওয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শনিবার সন্ধ্যায় এলাকাবাসীর পানি ব্যবহারের জন্য বসানো গভীর নলকূপের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি বিরোধ চলছিল এবং শনিবার গভীর নলকূপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে মো. শোয়াইবুল ইসলাম রাকিব, বয়স ২১ বছর। তিনি বলেন, তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, হঠাৎ গরম অনুভব করে ঘুম থেকে উঠে আগুনের শিখা দেখেন এবং বাইরে থেকেও আগুন লাগার চিৎকার শুনতে পান। এরপর ঘর থেকে বের হয়ে তিনি আর ভেতরে ঢুকতে পারেননি এবং টাকাসহ সব পুড়ে গেছে।
রাকিবের অভিযোগ, আগুন লাগার আগে প্রতিবেশীরা তাদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ নিয়ে রাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হলে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক সহিদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ দুই পক্ষকে শান্ত করে রোববার সকাল ১১টায় থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেয় বলে তিনি জানান।
রাকিব বলেন, বৈঠকের আগেই তাদের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, খবর পেয়ে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়।
আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মুজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তাদের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং আগুনের মধ্যে নির্বাপণের কাজ শুরু করে। ৪৫ মিনিটের মধ্যে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয়। এতে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের খবর ৯৯৯ নম্বরে আসে এবং পুলিশ রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘরে আগুন লাগার বিষয়ে তিনি অবগত নন এবং কোনো অভিযোগও আসেনি বলে তিনি জানান।



