চট্টগ্রাম বোর্ডে ১২২২ নম্বর পেয়ে সবার ওপরে চুয়েট কলেজের তামযীদ

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন চুয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তামযীদ তাহসীন রেজা (তামাম)। সাতটি বিষয়ে তিনি মোট ১ হাজার ২২২ নম্বর পেয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তামযীদের সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে প্রথম হওয়ায় তাঁর পরিবার, শিক্ষক ও নিজ এলাকার মানুষের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়।
তামযীদের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠার শিকড় গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপতিপুর পাঁচপাড়া গ্রামে।
তাঁর বাবা চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। মা শামসুন্নাহার বেগম। বাবার কর্মস্থলের সুবাদে চট্টগ্রামে থেকে পড়াশোনা করেছেন তামযীদ।
বিষয়ভিত্তিক নম্বরেও তামযীদের ফল ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি বাংলায় ১৭৫, ইংরেজিতে ১৭৩, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ৯৬, পদার্থবিজ্ঞানে ১৯৭, জীববিজ্ঞানে ১৯৪, রসায়নে ১৯৩ এবং উচ্চতর গণিতে ১৯৪ নম্বর পেয়েছেন। সাত বিষয়ের এই নম্বর যোগ করলেই মোট দাঁড়ায় ১ হাজার ২২২।
সাফল্যের পেছনে আল্লাহর রহমত, নিজের অধ্যবসায়, বাবা-মায়ের ত্যাগ ও শিক্ষকদের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন তামযীদ। তিনি জানান, পড়াশোনার সময় মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন এবং দিনে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পড়তেন।
এখন প্রকৌশল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিতে ভর্তি কোচিং করছেন তামযীদ। ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়ার লক্ষ্যের কথাও ফল প্রকাশের পর জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন তামযীদ। সেই পরীক্ষায় তাঁর মোট নম্বর ছিল ১ হাজার ২৪৭।
পড়াশোনার বাইরেও সৃজনশীল কাজে আগ্রহ রয়েছে তামযীদের। আবৃত্তি, আঁকাআঁকি ও গ্রাফিক্স ডিজাইনিংয়ে সময় কাটান তিনি।
তাঁর মা শামসুন্নাহার বেগম জানিয়েছেন, ছেলের ওপর কখনো পড়াশোনা চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। নিজের আগ্রহ ও আনন্দ থেকে পড়াশোনা করেছে সে। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নের উত্তর নিয়ে তাকে আবার মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখিও করা হয়নি।
ছেলের সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে বাবা অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, তামযীদ চেষ্টা করেছে এবং সেই অনুযায়ী ভালো ফল করেছে। তার উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার সামগ্রিক পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। বোর্ডের মোট ৯৯ হাজার ৮৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫০ হাজার ১৬৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২ হাজার ৯২৯ জন। সেই বোর্ডেরই সর্বোচ্চ নম্বরটি এসেছে তামযীদের খাতায়।




