সেন্টমার্টিনের গভীর সমুদ্রে ধাওয়া করে ১০ টন সারসহ ৯ পাচারকারীকে আটক করল কোস্ট গার্ড
কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব দিকের গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে নেওয়া প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সারসহ ৯ জনকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়েছে।
রোববার কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। কোস্ট গার্ডের দাবি, আটক বোটে অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহন করা হচ্ছিল প্রায় ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব গভীর সমুদ্র এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ‘অপারেশন সার সুরক্ষা’-য় নিয়োজিত কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজ।
অভিযান চলাকালে ওই সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহজনক বোটের গতিবিধি কোস্ট গার্ডের নজরে আসে। বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। তখন কোস্ট গার্ডের আভিযানিক দল বোটটির পিছু নেয় এবং একপর্যায়ে ধাওয়া করে গভীর সমুদ্রে সেটি আটক করতে সক্ষম হয়।
পরে আটক বোটে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইউরিয়া সার উদ্ধার করা হয়। কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার করা সারগুলো অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বোটটিতে বহন করা হচ্ছিল। অভিযানে ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার ও পাচারে ব্যবহৃত বোটটি জব্দ করা হয়।
আটক ৯ জন হলেন মো. ফুরকান (৬০), আ. সৈয়দ নূর (৩২), তৌফিক ইসলাম (৩৪), মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৪), মো. ইকবাল হোসেন (৩৫), আ. শাহজাহান (৪৪), আলাউদ্দিন (৪৪), মো. আব্বাস (৪৭) ও মো. রফিক আহমেদ (৬০)। তারা চট্টগ্রামের পটিয়া, কক্সবাজারের চকরিয়া ও লক্ষ্মীপুর এলাকার বাসিন্দা।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, জব্দ করা ১০ হাজার কেজি ইউরিয়া সার, পাচারে ব্যবহৃত বোট এবং আটক ৯ ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



