কংগ্রেস ছাড়াই শাসনের প্রস্তুতি ট্রাম্প প্রশাসনের, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস গত কয়েক মাস ধরে এমন পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেন তাঁর প্রধান এজেন্ডাগুলো এগিয়ে নিতে পারেন, এমন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে রোববার রয়টার্স জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তির বরাতে তৈরি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই তিনজন জানিয়েছেন, ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার এবং বাজেট পরিচালক রাসেল ভটসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এপ্রিল মাস থেকে হোয়াইট হাউস কাউন্সেল অফিসের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের লক্ষ্য, অভিবাসন, শুল্ক, আবাসন ব্যয় এবং ফেডারেল ব্যয়ের মতো বিষয়গুলোতে এমন নির্বাহী পদক্ষেপ চিহ্নিত করা, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প কার্যকর করতে পারবেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউস কাউন্সেল উইল শার্ফ ও তাঁর দল খতিয়ে দেখছেন, “ট্রাম্প আইনত এককভাবে কী কী করতে পারেন, কোথায় তিনি তাঁর ক্ষমতার সীমা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন এবং আদালতে কীভাবে সেই সিদ্ধান্তগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা যায়।”
একই সঙ্গে প্রশাসনের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য তদন্ত মোকাবিলার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা একটি বৈপরীত্যকে সামনে এনেছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ড তদন্ত করার, আইন প্রণয়ন আটকে দেওয়ার এবং তাঁর ব্যয়ের অগ্রাধিকার সীমাবদ্ধ করার ক্ষমতা পাবেন। তবে বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতি ও ফেডারেল আমলাতন্ত্রের ওপর ট্রাম্পের ব্যাপক নির্বাহী ক্ষমতা তখনো বহাল থাকবে—যে ক্ষমতা তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ইতিমধ্যেই জোরালোভাবে ব্যবহার করেছেন।
বর্তমানে প্রতিনিধি সভায় রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ২১৮–২১৪ এবং সিনেটে ৫৩–৪৭। নিয়ন্ত্রণ উল্টে দিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি করে আসন বেশি পেতে হবে। জনমত জরিপ অনুযায়ী প্রতিনিধি সভায় ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি দেখা গেলেও সিনেটের লড়াই এতটাই হাড্ডাহাড্ডি যে ফল নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
গত এক মাস ধরে ট্রাম্প সারা দেশে নির্বাচনী জনসভা করেছেন কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার লক্ষ্যে। অথচ একই সময়ে তাঁর সহযোগীরা পর্দার আড়ালে ২০২৭ সালের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হোয়াইট হাউস রিপাবলিকান পরাজয়ের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে এবং গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান প্রচারের অভিযোগ তুলেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস বলেছেন, “এই প্রশাসন এবং বিবেকবান রিপাবলিকানরা আমাদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখা, আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করা, কঠোর পরিশ্রমী আমেরিকানদের পকেটে আরও অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া এবং আমেরিকান জনগণের জন্য সাফল্য বয়ে আনার কাজ চালিয়ে যাবে।”
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিবেচনাধীন নির্বাহী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বায়ু টারবাইন আমদানির ওপর নতুন শুল্ক, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের ভিসায় কঠোর নিয়ম এবং আবাসন ও নির্মাণ ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ। পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তির ভাষ্য, ফেডারেল সংস্থাগুলো প্রশাসন এককভাবে নিতে পারে এমন পদক্ষেপের প্রস্তাব ও আইনি পর্যালোচনা জমা দিয়েছে।
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত দুজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ‘অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেট’-এর মাধ্যমে ফেডারেল ব্যয় তদারককারী ভট খতিয়ে দেখছেন, কংগ্রেসের অনুমোদিত তহবিল ব্যবহার করে কোন অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। তাঁরা বলেন, ভট ফেডারেল অনুদান প্রদানের নিয়মে পরিবর্তন চান, যাতে কোন কর্মসূচিতে করদাতাদের অর্থ ব্যয় হবে, সে বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের মতামতের সুযোগ বাড়ে। এতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ফেডারেল ব্যয়ের ওপর হোয়াইট হাউসের প্রভাব আরও বাড়তে পারে।




