জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফের স্মৃতি ফিরিয়ে আনলেন আমিনুল-আলফাজরা, প্রদর্শনী ম্যাচে দুই প্রজন্মের মিলন

এক মাঠে দুই ইতিহাসের পুনর্মিলন ঘটল রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় স্টেডিয়ামে। কারও হাতে ২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের স্মৃতি, কারও ঝুলিতে ২০১০ সালের এসএ গেমসের সোনার পদক।
আগামী ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। দীর্ঘ আট বছর পর দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলের এই প্রতিযোগিতা ফিরছে বাংলাদেশে। ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রদর্শনী ম্যাচটি পুরোনো সাফল্যের স্মৃতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি জাতীয় দলকে উৎসাহিত করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
বিকাল ৫টায় শুরু হওয়া ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করেন জাহিদ। ২০১০ সালের এসএ গেমসজয়ী দল এগিয়ে যায়। পরে পেনাল্টি থেকে গোল করে ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলকে সমতায় ফেরান আলফাজ আহমেদ। এরপর সাফজয়ী দলের জালে আরও একবার বল জড়ায়।
২০০৩ সালে এই জাতীয় স্টেডিয়ামেই সাফের ফাইনালে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন রজনীকান্ত, আলফাজ, আমিনুলরা। অন্যদিকে ২০১০ সালে এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ের আনন্দে মেতেছিলেন জাহেদ পারভেজ, ইউসুফ, মিন্টু, এনামুল ও এমিলিরা।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শেষ হয় খেলা। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রায় শখানেক দর্শক প্রিয় ফুটবলারদের সঙ্গে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। খেলা শেষে সাবেক চ্যাম্পিয়নরা সমর্থকদের আবদারে সাড়া দিয়েছেন হাসিমুখে।
সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটানোর পর গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন দুই দলের সাবেক ফুটবলাররা। ২০০৩ সালের সাফজয়ী দলের হয়ে মাঠে নামা যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘আগামী ৫ নভেম্বর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশ দলকে শুভকামনা জানাতে এবং উৎসাহিত করতে আজ ২০০৩ ও ২০১০ সালের দুই চ্যাম্পিয়ন দল এই প্রদর্শনী ম্যাচ খেলেছে।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ জাতীয় দলকে অনুপ্রাণিত করতে এবং দেশের ফুটবলের পুরোনো গৌরবের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেই সাবেক চ্যাম্পিয়নদের এক মঞ্চে আনার উদ্যোগ নেয়। দীর্ঘ ২৩ বছর পর আবারও সাফের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ, আর ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট হওয়ায় সমর্থকদের প্রত্যাশাও বেশি।
২০১০ সালের এসএ গেমসে স্বর্ণজয়ী দলের সদস্য মামুনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার আইডলের সঙ্গে খেলেছি, এটাই আমার জন্য বড় পাওয়া। এই ধরনের ম্যাচ একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়। সবাই আসি, সবার সঙ্গে ভালোমন্দ কথা ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করি—সব মিলিয়ে আমি মনে করি এটি সাফ ফুটবলের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।’
ম্যাচে কে জিতল, কে হারল তা নিয়ে কারও মাথাব্যথা ছিল না। দুই দলের সাবেক তারকাদের উপস্থিতি আর তাঁদের স্মৃতিচারণেই মুখর ছিল পুরো আয়োজন, যা গোলের লড়াই ছাপিয়ে স্মৃতি আর বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালি দিনের নস্টালজিক আয়োজনে পরিণত হয়।



