বিতর্কিত মন্তব্যে আলোচিত নাজমুল ইসলাম এবার এনসিপির ক্রীড়া উইংয়ের সদস্যসচিব

একটি বক্তব্যে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক ও অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান এম. নাজমুল ইসলাম এবার জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যুক্ত হচ্ছেন।
দলটির নতুন ক্রীড়া উইং ‘ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্স’-এর সদস্যসচিবের দায়িত্ব পাচ্ছেন তিনি। সংগঠনটির আহ্বায়ক হচ্ছেন পরিচিত ক্রীড়া সংগঠক ও ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম।
সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন এই উইংয়ের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ হবে। এনসিপির একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং নাজমুল ইসলাম নিজেও তা নিশ্চিত করেছেন।
গত জানুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে নাজমুল ইসলামের একটি বক্তব্য ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। নিরাপত্তার কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ।
নাজমুল সেসময় জানান, বিশ্বকাপে না খেললেও ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসি থেকে বিসিবির রাজস্ব আয়ে কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে আর্থিক ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের, কারণ তারা ম্যাচ ফি ও প্রাইজমানি থেকে বঞ্চিত হবেন।
ক্রিকেটারদের এই ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বিসিবির আছে কি না — সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তার জবাব নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তিনি সেসময় বলেন, ক্রিকেটাররা গিয়ে যদি কিছুই করতে না পারে, তাহলে তাদের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা খরচের পর সেই টাকা কি তাদের কাছ থেকে ফেরত চাওয়া হচ্ছে নাকি।
আরেক প্রশ্নে তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ক্রিকেটাররা কিছুই করতে পারছেন না এবং এখন পর্যন্ত কোনো বৈশ্বিক পুরস্কারও পাননি তারা। এই বক্তব্যে ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সেদিন রাতেই সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেয় বিসিবি। বোর্ড জানায়, কোনো পরিচালক বা সদস্যের ব্যক্তিগত মন্তব্য বিসিবির আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। এ ধরনের বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করে সংস্থাটি এবং জানায়, ক্রিকেটারদের প্রতি অসম্মানজনক বক্তব্য বোর্ডের মূল্যবোধ ও নীতির প্রতিফলন নয়।
তবে তাতেও বিতর্ক থামেনি। পরদিন ১৫ জানুয়ারি নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে আল্টিমেটাম দেয় ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। দাবি পূরণ না হলে বিপিএলসহ সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। একই দিনে বিসিবি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলে। একপর্যায়ে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতিও দেওয়া হয়, তবে এর ১০ দিনের মাথায় সেই দায়িত্বে আবারও ফিরে আসেন তিনি।
সেই ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর এবার রাজনৈতিক দলের ক্রীড়া সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন নাজমুল ইসলাম। নতুন অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা এনসিপির ক্রীড়া উইংয়ের হয়ে কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন, যেখানে ফাহিম আহ্বায়ক ও তিনি সদস্যসচিব। সাবেক খেলোয়াড় ও অন্য সংগঠকদেরও রাখা হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে এর পরিধি বাড়বে।
নাজমুল ইসলামের ভাষ্য, অ্যালায়েন্সটি শুধু ক্রিকেট নিয়ে কাজ করবে না। দেশের সব ধরনের খেলাধুলার উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা ও পরামর্শ দেবে তারা, ক্রীড়াঙ্গনে কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা তুলে ধরবে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রয়োজনে সংলাপে বসবে।
তিনি বলেন, তারা ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলবেন ও পরামর্শ দেবেন। শুধু ক্রিকেট নয়, সারা দেশের সব খেলা নিয়ে তাদের কাজ হবে। পরবর্তীতে তহবিল পেলে তারা নিজেরাও ক্রীড়া উন্নয়নে কাজ করবেন।
সোমবারের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সংগঠনটির পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে।




