বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশা বিক্রির পরিকল্পনায় চালক আসাদুলকে হত্যা, পরিচিত যুবক ও তাঁর নানি গ্রেপ্তার

বগুড়ার শেরপুরে অটোরিকশাচালক আসাদুল ইসলাম (২৬) হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অটোরিকশা দখল করে বিক্রি করার উদ্দেশে আসাদুলকে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় আসাদুলের পরিচিত রিয়াদ হোসেন (২১) ও রিয়াদের নানি রেহানা বেগমকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, লাশ নদীতে ফেলে গোপন করতে রিয়াদকে সহযোগিতা করেন তাঁর নানি।
শনিবার দিবাগত রাতে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার চকমুড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার রিয়াদ পেশায় পরিবহনশ্রমিক এবং গাবতলীর চকমুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। রেহানা বেগমের বাড়ি শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের রণবীরবালা গ্রামে।
তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার সকালে বগুড়া শহর থেকে আসাদুলের অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। একই দিন দুপুরে শেরপুরের রণবীরবালা এলাকায় করতোয়া নদী থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন শেরপুর উপজেলার গাড়িদহ ইউনিয়নের কাফুরা গ্রামের বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।
পরদিন আসাদুলের মা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উপজেলার শাহবন্দেগি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর নামাপাড়া গ্রামের করতোয়া নদী থেকে আসাদুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন তাঁর মা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শেরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। লাশ নদীতে ফেলে দেওয়ার কাজে তাঁর নানি সহযোগিতা করেছেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় রণবীরবালা গ্রামে রেহানা বেগমের বাড়িতে আসাদুল ও রিয়াদ একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করেন। এ সময় রিয়াদের কাছে থাকা চকচকে ৫০ টাকার একটি নোট দেখতে চান আসাদুল। নোটটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের মধ্যে বিরোধ বাধে।
পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে আসাদুল কলম দিয়ে রিয়াদকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিয়াদ ঘরে থাকা ছুরি দিয়ে আসাদুলের গলায় আঘাত করেন। আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে যান আসাদুল। পরে তাঁর মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে বুক চেপে ধরেন রিয়াদ।
এরপর বিছানার চাদরে লাশ মুড়িয়ে বাড়ির পাশের করতোয়া নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পুলিশের দাবি, এ কাজে রিয়াদকে সহযোগিতা করেন তাঁর নানি রেহানা বেগম।
শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, আসাদুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল রিয়াদের। এ উদ্দেশে ২৪ অক্টোবর দুপুরের পর তিনি আসাদুলের অটোরিকশায় যাত্রী হিসেবে ওঠেন। পরে তাঁকে নিয়ে নানির বাড়িতে যান, সেখানে সন্ধ্যায় তাঁরা ইয়াবা সেবন করেন।
ওসি জানান, গ্রেপ্তার দুজনকে রোববার বিকেলে বগুড়ার আদালতে পাঠানো হয়েছে।



