হারগেইসায় পরিচয়পত্র পেশ করলেন সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন
সোমালিল্যান্ডে ইসরায়েলের প্রথম রাষ্ট্রদূত তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করেছেন বিচ্ছিন্নতাবাদী অঞ্চলটির প্রেসিডেন্টের কাছে। প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন হারগেইসার এক অনুষ্ঠানে, যেখানে কর্মকর্তারা একটি ইসরায়েলি দূতাবাসের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রোববার অনুষ্ঠানগুলোর কথা ঘোষণা করে জানিয়েছে, এগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে গত সপ্তাহে।
এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বাস্তব রূপ পেল ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বরের চুক্তি, যেদিন জাতিসংঘের প্রথম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেয়। অঞ্চলটি ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করলেও মোগাদিশু এখনো সেটিকে নিজের অংশ বলে দাবি করে।
অনুষ্ঠানটিকে ‘ঐতিহাসিক দিন’ আখ্যা দিয়ে প্রেসিডেন্ট আবদিরহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি, যিনি চিরো নামে পরিচিত, বলেন, এই প্রথম কোনো সোমালিল্যান্ড প্রেসিডেন্ট এমন একটি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করলেন, যে রাষ্ট্র অঞ্চলটির স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
রাষ্ট্রদূত মাইকেল লোটেম বলেন, ইসরায়েলের স্বীকৃতি শুধু একটি কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ৩৫ বছরে সোমালিল্যান্ড যা গড়ে তুলেছে, তারই স্বীকৃতি।
সোমালিল্যান্ড তিন দশকের বেশি সময় ধরে নিজেই নিজেকে শাসন করে আসছে, তবে ইসরায়েল ছাড়া জাতিসংঘের আর কোনো সদস্য রাষ্ট্র এখনো সেটিকে স্বীকৃতি দেয়নি।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেয়ন সার রোববার এক বিবৃতিতে বলেন, রাষ্ট্রদূত বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সম্পর্ক স্থাপনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। সার জানুয়ারিতে সোমালিল্যান্ড সফর করেছিলেন, আর জুনে চিরোর ইসরায়েল সফরের সময় অঞ্চলটি পশ্চিম জেরুজালেমে একটি দূতাবাস খোলে।
হারগেইসার অনুষ্ঠানে চিরো সম্পর্কটির বৃহত্তর গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগর ঘিরে আমাদের কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক তাৎপর্য বহন করে। সোমালিল্যান্ড এই সম্পর্ককে প্রকৃত কৌশলগত অঙ্গীকার ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে এগিয়ে নিচ্ছে।’
সোমালিল্যান্ড এডেন উপসাগরের ওপারে ইয়েমেনের মুখোমুখি, বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি অবস্থিত। লোহিত সাগর ও ভারত মহাসাগরের মধ্যে এই প্রণালি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচলের পথ।
প্রণালির ইয়েমেন পাশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লড়াই তীব্র হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর জাতিসংঘের দূত হান্স গ্রুনবার্গ সতর্ক করে বলেন, ইয়েমেন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ফিরে গেছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
ইসরায়েল স্বীকার করেছে, কূটনৈতিক স্বীকৃতির আগেই দুই পক্ষের মধ্যে একটি নিরাপত্তা সম্পর্ক ছিল। জুনে চিরোর ইসরায়েল সফরের সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেন, দুই পক্ষ বছরের পর বছর গোপন অভিযানে সহযোগিতা করেছে এবং নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায়।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ চলতি সপ্তাহে স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের স্বাধীনতাকে সমর্থন করতে নয়, লোহিত সাগরে প্রবেশাধিকার পেতে চায়। তাঁর ভাষায়, ‘ইসরায়েল লোহিত সাগর চায়, এটাই একমাত্র কারণ।’
মোহামুদ আরও অভিযোগ করেন, ইসরায়েল অঞ্চলটিতে একটি নৌঘাঁটি চায়। সোমালিল্যান্ডের কর্মকর্তারা ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটি বসানোর বিষয়ে উন্মুক্ত থাকার ইঙ্গিত দিলেও অঞ্চলটির প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বলেছেন, এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
ডিসেম্বরে ইসরায়েলের স্বীকৃতিকে নিজের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছিল সোমালিয়া। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ, আফ্রিকান ইউনিয়ন ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)ও।




