বন্ডি সৈকতের হামলার পর সিডনির রাস্তায় সশস্ত্র পুলিশের টহল শুরু

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির রাস্তায় ভারী অস্ত্র হাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের টহল শুরু হয়েছে। গত বছর বন্ডি সৈকতে প্রাণঘাতী গুলির ঘটনার পর জোরদার করা নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এই টহল চালু করা হয়েছে।
নতুন এই উদ্যোগের নাম আর্মড রেসপন্স কমান্ড (এআরসি)। এর আওতায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ব্যস্ত পর্যটন এলাকাগুলোতে লম্বা ব্যারেলের রাইফেল বহন করে টহল দেবেন — যা বেশির ভাগ বাসিন্দার কাছে অপরিচিত দৃশ্য।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, এই কর্মকর্তারা বড় আয়োজন যেমন খেলার ম্যাচ এবং উপাসনালয়গুলোতেও টহল দেবেন, যাতে সক্রিয় সশস্ত্র হামলাকারীর ঘটনাসহ গুরুতর হুমকি প্রতিরোধ, নিরুৎসাহিত ও দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
গত ডিসেম্বরে জনপ্রিয় সৈকতটিতে ইহুদি উৎসব হানুক্কা উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই বন্দুকধারী গুলি চালালে ১০ বছর বয়সী এক মেয়েসহ ১৫ জন নিহত হন।
ওই হামলা ছিল প্রায় তিন দশকের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ভয়াবহ গণগুলি। এর পর ব্যাপক আগ্নেয়াস্ত্র আইন সংস্কার ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
একজন বাসিন্দা এবিসি নিউজকে বলেছেন, সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি ‘অস্বস্তিকর’। তিনি বলেন, ‘তারা সব জায়গায়। ওই বন্দুকগুলো বিশাল।’ তবে আরেকজন নারী সম্প্রচারমাধ্যমটিকে বলেছেন, অস্ত্র হাতে পুলিশ দেখে তিনি নিরাপদ বোধ করছেন।
নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, এআরসি বিশেষভাবে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি সিডনিজুড়ে অত্যন্ত দৃশ্যমান থাকে, বিশেষ যান চালায় ও রাইফেল বহন করে। গোয়েন্দা সুপারিনটেনডেন্ট অ্যান্ড্রু ইভান্স বলেছেন, এর ভূমিকা ‘একটি সহজ নীতির ওপর গড়া — জীবন রক্ষা করা।’
১৪ ডিসেম্বরের গুলি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকারের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করে এবং ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের দাবি ওঠে। ইহুদি সম্প্রদায় নতুন পুলিশ অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত ২৫০ জন কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত হবে, তবে অন্যরা মানবাধিকার রক্ষায় সুরক্ষা ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ান জিউরির সহপ্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স রিভচিন বলেন, ‘কোনো অস্ট্রেলীয়ই আমাদের রাস্তায় সামরিক অস্ত্র হাতে কর্মকর্তাদের দেখতে চায় না, কিন্তু মরদেহের ব্যাগের দৃশ্য তার চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহ।’
অন্যদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ‘পুলিশি ব্যবস্থার সামরিকীকরণ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং এআরসি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে ব্যবহার করা হবে না — এমন নিশ্চয়তা চেয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে। সংস্থাটির অ্যান্ড্রু উইদারফোর্ড বলেন, পুলিশের ক্ষমতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে স্পষ্ট ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নিয়ম, শক্তিশালী স্বাধীন তদারকি ও জবাবদিহি থাকতে হবে।
নিউ সাউথ ওয়েলস প্রশাসন নতুন ব্যবস্থাগুলোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী ইয়াসমিন ক্যাটলি এবিসিকে বলেন, ‘আমাদের পৃথিবী চিরতরে বদলে গেছে। এটাই সত্য, পুরো দেশজুড়ে। আমি তখনই বলেছিলাম, আমরা আর কখনো আগের মতো থাকব না।’
অভিযুক্ত বন্দুকধারীদের একজন নাভিদ আকরামের বিরুদ্ধে ১৫টি হত্যা, ৪০টি হত্যাচেষ্টা ও একটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগসহ মোট ৭৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বাবা সাজিদ আকরাম (৫০), যিনি বন্ডি সৈকতে জনতার ওপর গুলি চালিয়েছিলেন, ঘটনাস্থলেই পুলিশের গুলিতে নিহত হন।



