টেস্টোস্টেরন থেরাপি নেওয়া মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের হার বেশি, বলছে নতুন গবেষণা

মেনোপজ-পরবর্তী যেসব নারী টেস্টোস্টেরন থেরাপি নেন, তাঁদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ অন্যান্য হৃদ্রোগজনিত সমস্যার ঝুঁকি বেশি হতে পারে—নতুন এক গবেষণায় এমন ইঙ্গিত মিলেছে।
গবেষণাটি গত মাসে সান দিয়েগোতে দ্য মেনোপজ সোসাইটির ২০২৬ সালের বার্ষিক সভায় উপস্থাপন করা হয়। এতে ৪৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৬ হাজারের বেশি মেনোপজ-পরবর্তী নারীকে পর্যবেক্ষণ করা হয়; টেস্টোস্টেরন থেরাপি নেওয়া নারীদের সঙ্গে তা না নেওয়া নারীদের তুলনা করা হয়। যেসব নারীর আগে থেকেই হৃদ্রোগের ইতিহাস ছিল, তাঁদের এই গবেষণা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
দ্য মেনোপজ সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, টেস্টোস্টেরন নেওয়া নারীদের মধ্যে ৩.৮ শতাংশ প্রথমবারের মতো কোনো হৃদ্রোগজনিত ঘটনার শিকার হয়েছেন, যেখানে থেরাপি না নেওয়া নারীদের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র ০.৫ শতাংশ।
এসব ঘটনার মধ্যে ছিল হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিওরসহ অন্যান্য হৃদ্সংক্রান্ত সমস্যা।
ডালাসভিত্তিক বোর্ড-সার্টিফাইড প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মেনোপজ বিশেষজ্ঞ ডা. আনা কাবেকা ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, দুই দলের মধ্যে পার্থক্যটা মনোযোগ পাওয়ার মতো। তিনি নিজে এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
কাবেকা হিসাব করে দেখিয়েছেন, এই হার মানে টেস্টোস্টেরন নেওয়া প্রতি ১ হাজার নারীর মধ্যে প্রায় ৩৮ জনের হৃদ্রোগজনিত ঘটনা ঘটেছে, যেখানে না নেওয়া নারীদের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি প্রতি ১ হাজারে ৫ জন। তাঁর ভাষায়, ‘৩.৮ শতাংশ ও ০.৫ শতাংশের পার্থক্য অবশ্যই মনোযোগ দেওয়ার মতো তাৎপর্যপূর্ণ, তবে এই সংখ্যাগুলো আসলে কী বলছে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক হতে হবে।’
ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিকের তথ্য অনুযায়ী, টেস্টোস্টেরন একটি যৌন হরমোন, যা ডিম্বাশয় ও অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে তৈরি হয়। এটি যৌন আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি পেশি ও হাড়ের স্বাস্থ্য, মেজাজ এবং জ্ঞানীয় ক্ষমতায়ও ভূমিকা রাখে।
টেস্টোস্টেরন থেরাপির কথা ভাবছেন এমন নারীদের ক্ষেত্রে কাবেকা বলেন, চিকিৎসকদের রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্যের দিকে তাকানো উচিত—এর মধ্যে রয়েছে হৃদ্রোগের ইতিহাস, রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, বিপাকীয় স্বাস্থ্য, ব্যবহৃত ওষুধ এবং পারিবারিক ইতিহাস।
তিনি আরও বলেন, ‘যৌন স্বাস্থ্য সামগ্রিক স্বাস্থ্যের একটি অপরিহার্য অংশ, এবং নারীরা যাতে যৌন আকাঙ্ক্ষা, উত্তেজনা ও ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়, তা পাওয়ার অধিকার তাঁদের আছে—বিশেষ করে মেনোপজের সময় ও তার পরে।’ তাঁর মতে, যথাযথভাবে নির্বাচিত মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন যৌন আকাঙ্ক্ষা ও তৃপ্তি বাড়াতে পারলেও সম্ভাব্য সুবিধার সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকির তুলনা করে দেখতে হবে।
যেসব ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন থেরাপি উপযুক্ত, কাবেকা সেসব ক্ষেত্রে সতর্ক মাত্রায় ওষুধ দেওয়া, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং রোগীর উপসর্গ ও ল্যাব ফলাফল নিয়মিত যাচাইয়ের পক্ষে মত দিয়েছেন।
তবে গবেষকরা নতুন এই ফলাফলের গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন। গবেষণাটি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক—অর্থাৎ নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষায় চিকিৎসা বরাদ্দ না করে, যেসব নারী আগে থেকেই টেস্টোস্টেরন নিচ্ছিলেন, তাঁদের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ফলে গবেষণাটি টেস্টোস্টেরন ব্যবহারের সঙ্গে হৃদ্রোগজনিত ঘটনার একটি সম্পর্ক দেখাতে পারে, কিন্তু এই চিকিৎসাই সেগুলোর কারণ—তা প্রমাণ করতে পারে না।
কাবেকা আরও বলেন, যেসব নারী টেস্টোস্টেরন নিয়েছেন, তাঁরা না নেওয়া নারীদের থেকে বয়স, রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরলের মাত্রা বা অন্যান্য স্বাস্থ্যগত দিক থেকে আলাদা হতে পারেন, যেগুলো তাঁদের হৃদ্ঝুঁকিকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। তাঁর মতে, ‘এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সংকেত, যা আরও তদন্তের দাবি রাখে; কার্যকারণের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।’




