যুক্তরাষ্ট্রে ছুটির মৌসুমের বিমানভাড়া ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ, থ্যাঙ্কসগিভিংয়ে গড় ৪০২ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে এবার ছুটির মৌসুমের বিমানভাড়া ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এতে থ্যাঙ্কসগিভিং ও বড়দিনের ভ্রমণের পরিকল্পনা করা আমেরিকানদের ওপর বাড়তি চাপ পড়েছে। তবে একজন ভ্রমণ বিশেষজ্ঞ বলছেন, সাশ্রয়ের উপায় এখনো আছে।
ভ্রমণ-বুকিং প্রতিষ্ঠান হপার তাদের ২০২৬ হলিডে ট্রাভেল ইনডেক্স প্রকাশ করেছে। এতে গত বছরের তুলনায় বিমানভাড়ায় বড় বৃদ্ধির চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনটির জন্য সেপ্টেম্বরে এক সপ্তাহের ফ্লাইট অনুসন্ধান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে কম দামের টিকিটগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং গত বছরের সঙ্গে তুলনার সময় থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের তারিখ বদলের বিষয়টিও হিসাব করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, থ্যাঙ্কসগিভিংয়ের জন্য অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ বিমানভাড়া গড়ে ৪০২ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৩১ শতাংশ বা ৯৫ ডলার বেশি।
বড়দিনের জন্য অভ্যন্তরীণ রাউন্ড-ট্রিপ ভাড়া গড়ে ৪৫২ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ২৩ শতাংশ বা ৮৫ ডলার বেশি। মেক্সিকো ও মধ্য আমেরিকার ফ্লাইটের ভাড়া বেড়েছে ২৩ শতাংশ, আর ইউরোপের ভাড়া বেড়েছে ১৫ শতাংশ।
সার্বিকভাবে বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকায় এয়ারলাইনগুলো আসন কমিয়েছে, আর চাহিদাও জোরালো রয়েছে।
হপার এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে জেট জ্বালানির বাড়তি খরচকে দায়ী করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে কয়েক মাস ধরে জেট জ্বালানির দাম বেশি থাকায় থ্যাঙ্কসগিভিং ও বড়দিনের ভাড়া ১০ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সামনে থ্যাঙ্কসগিভিং ও বড়দিনের ভ্রমণের দিকে তাকিয়ে যাত্রীদের এ বছর বড় ভ্রমণ বাজেটের পরিকল্পনা করতে হবে, কারণ ২০২৬ সালের ছুটির ভ্রমণ এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল হতে চলেছে।’
টেক্সাসভিত্তিক বিমান-বিশেষজ্ঞ ও ‘ভিউ ফ্রম দ্য উইং’ ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা গ্যারি লেফ বলেছেন, এই বেশি দাম একসঙ্গে ভ্রমণ করা পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলবে। তাঁর ভাষায়, বৃদ্ধিটা চার বা তার বেশি যাত্রীর সঙ্গে গুণ হলে বিষয়টা অনেক বড় হয়ে যায়।
লেফ যাত্রীদের বুকিংয়ের পরও ভাড়ার দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ দাম কমলে পার্থক্যের অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘এখন কিনুন আর ভাড়া কমে যাক, আপনাকে শুধু নজর রাখতে হবে। কিনে ফেললেই আর কখনো তাকাবেন না, এমনটা করবেন না।’
লেফ আরও বলেন, বেসিক ইকোনমি টিকিট ছাড়া বেশির ভাগ টিকিটে এখন আর বদলের ফি নেই। ফলে যাত্রী এয়ারলাইনকে ফোন করে পুরোনো টিকিট নতুন টিকিটে প্রয়োগ করে সাধারণত পার্থক্যের অর্থ ক্রেডিট হিসেবে ফেরত পেতে পারেন। তবে ভিন্ন বিমানবন্দর থেকে ওড়া বা কানেক্টিং ফ্লাইট নেওয়ার মতো প্রচলিত সাশ্রয়ী কৌশল সব সময় কাজ করে না বলেও তিনি জানান।




