ওয়াশিংটনে মেয়েদের ক্রস-কান্ট্রি দৌড়ে ছেলে প্রতিযোগীকে ঘিরে বিতর্ক, রাজ্য আসর হাতছাড়া পুয়ালাপ দলের

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইউনিভার্সিটি প্লেসের চেম্বারস বে-তে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক ক্রস-কান্ট্রি প্রতিযোগিতায় মেয়েদের বিভাগে এক ছেলে দৌড়বিদের অংশগ্রহণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্যামাস হাই স্কুলের ওই দৌড়বিদ মেয়েদের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সপ্তম স্থান অধিকার করেন।
মেয়েদের ৪এ বিভাগে পুয়ালাপ হাই স্কুলের দল শেষ করে অষ্টম স্থানে। নিয়ম অনুযায়ী শীর্ষ সাতটি দল রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে যায়। ক্যামাসের ওই দৌড়বিদের অবদান না থাকলে পুয়ালাপই রাজ্য আসরে উঠত—এটাই বিতর্কের কেন্দ্র।
স্কাইভিউ হাই স্কুলের দৌড়বিদ সিয়েরা রেৎজলাফ প্রকাশ্যে মেয়েদের প্রতিযোগিতায় জৈবিকভাবে ছেলে প্রতিযোগীর অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে আসছেন। প্রতিযোগিতায় ক্যামাস দৌড়বিদের নাম ঘোষণা করা হলে তাঁর বাবা জোয়েল রেৎজলাফ চিৎকার করে বলেন, ‘ও তো একজন পুরুষ!’ তবে নাম ডাকা হলেও ওই দৌড়বিদ মঞ্চে ওঠেননি।
ক্যামাসের কোচ ম্যাট লেগ্রান্ড কেন তিনি মঞ্চে ওঠেননি, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পুয়ালাপ দলের কোচও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
ওই দৌড়বিদ মৌসুম শুরু করেছিলেন ছেলেদের দলে; মৌসুমের প্রথম জুনিয়র ভার্সিটি প্রতিযোগিতায় তিনি হন ৭৬তম। মাঝপথে মেয়েদের দলে যোগ দেওয়ার পর তিনি একটি ভার্সিটি প্রতিযোগিতায় জিতেছেন এবং তিনবার হয়েছেন দ্বিতীয়। গত দুটি প্রতিযোগিতায়—আগের সপ্তাহে জেলা পর্যায়ে এবং শনিবার আঞ্চলিকে—তিনি স্কাইভিউয়ের চার্লি গ্যারেটের ঠিক আগে শেষ করেন।
গ্যারেট বলেন, তিনি ওই দৌড়বিদের চেয়ে এক সেকেন্ডেরও কম ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন। তবে নিজের সেরা সময় গড়ে তিনি রাজ্য আসরের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। মঞ্চে না ওঠা প্রসঙ্গে গ্যারেট বলেন, ‘এটাই বোঝায় কেন তাঁর এতে থাকা উচিত নয়। তাঁর না আসার কারণ আছে।’
তিনবারের অলিম্পিয়ান ও রোয়িংয়ে ব্রোঞ্জ পদকজয়ী ক্যারল ব্রাউন বলেন, তিনি টাইটেল নাইনের জন্য লড়াই করে খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার অধিকার পেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ‘আমি ভাবতেই পারিনি ৫০ বছর পর আবার এই লড়াই লড়তে হবে। আমি সবার খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার অধিকারে বিশ্বাস করি, কিন্তু তা ন্যায্য ও নিরাপদ হতে হলে তা হতে হবে লিঙ্গের ভিত্তিতে।’
ব্রাউন বলেন, ‘এটা একেবারেই অন্যায্য। মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করে, অথচ বলা হচ্ছে মেয়েদের কণ্ঠের কোনো মূল্য নেই, তাদের আবেগের কোনো মূল্য নেই, তাদের কঠোর পরিশ্রম আবারও ছেলেদের কাছে পেছনে পড়ে গেল।’
ওমেন্স লিবারেশন ফ্রন্টের (উলফ) নির্বাহী পরিচালক জাসমিন ফক বলেন, বিষয়টি নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিয়ে, আর ন্যায্যতা দলীয় বিষয় হওয়া উচিত নয়। প্রতিবাদকারীদের একজন ডন ল্যান্ড ‘মেয়েরা ন্যায্য খেলাধুলার যোগ্য!’ লেখা প্ল্যাকার্ড তুলে ধরেন।
আগামী মঙ্গলবার ওয়াশিংটনের ভোটাররা ইনিশিয়েটিভ ৬৩৮ নিয়ে ভোট দেবেন, যাতে কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের খেলাধুলায় জৈবিকভাবে ছেলে প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে। ক্যারল ব্রাউন সরাসরি আহ্বান জানিয়েছেন, ‘মেয়েদের জন্য ন্যায্য ও নিরাপদ খেলাধুলায় বিশ্বাস করলে হ্যাঁ ভোট দিন।’




