জাতিসংঘে কিউবার কূটনীতিক কর্মীকে ধাক্কা দিয়ে ফোন কেড়ে নিয়েছিলেন, বহিষ্কারের বর্ণনা দিলেন মার্কিন দূত ওয়াল্টজ

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, কিউবার এক কূটনীতিক তাঁর এক কর্মীকে ধাক্কা দিয়েছিলেন এবং তাঁর হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নির্দেশে ওই কূটনীতিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়।
‘দ্য সানডে ব্রিফিং’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াল্টজ জাতিসংঘে কিউবার কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া সেই উত্তেজনাকর ঘটনার বর্ণনা দেন।
ওয়াল্টজ বলেন, ‘যে লোকটিকে আমরা আসলে তার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া দেশে একমুখী ফ্লাইটে তুলে দিয়েছি, সে আমার এক কর্মীকে ধাক্কা দিয়েছে, তার হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে, আর জাতিসংঘের কর্মীদের আমার মাইক্রোফোন বন্ধ করে দিতে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছিল। এরপর তাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী চেয়ার ছেড়ে উঠে মঞ্চের দিকে ছুটে আসেন।’
ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ওয়াল্টজের বক্তৃতার সময়। ওই বক্তৃতায় তিনি কিউবার সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছিলেন যে, দেশটির নেতারা সম্পদ গড়ছেন, অথচ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে আছে। তখন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ পারিয়াইয়া মঞ্চের দিকে এগিয়ে এসে তাঁর বক্তৃতায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
‘আমার সত্যিই মনে হচ্ছিল, এখনই কিছু একটা ঘটে যাবে,’ বলেন ওয়াল্টজ। ওই কূটনীতিককে কিউবায় ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্তের কৃতিত্ব তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে দেন।
ওয়াল্টজ জানান, বক্তৃতার সময় তিনি প্রয়াত সাবেক কিউবান প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রোর ব্যক্তিগত দ্বীপ ও বিলাসবহুল বিমানের ছবি, সেই সঙ্গে বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর নেতাদের রোলেক্স ঘড়ি, বিলাসবহুল ছুটি ও ইয়টের ছবি তুলে ধরছিলেন।
তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের মেঝেতে কূটনীতিকদের সামনে, সারা বিশ্বের সামনে তারা যদি এমন আচরণ করতে পারে, তাহলে কল্পনা করুন, বন্ধ দরজার আড়ালে তারা ওই দরিদ্র কিউবান জনগণের সঙ্গে কী করে।’
ওয়াল্টজ আরও বলেন, ‘তারা জাতিসংঘকে ব্যবহার করে, নিজেদের প্রচারণা এগিয়ে নিতে আর আমাদের দোষারোপ করতে সেটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। আমরা এটা মেনে নেব না, আর আমরা এটাকে ঠেকিয়ে দিয়েছি, প্রায় আক্ষরিক অর্থেই।’




