যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে অগ্রগতির ইঙ্গিত কার্নির, মধ্যবর্তী নির্বাচনের দুই দিন আগে ঘোষণা
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ বাণিজ্য চুক্তির পথে অগ্রগতির ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার দেওয়া এই ঘোষণা উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘোষণাটি এল ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, যে নির্বাচনেই নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।
রবিবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে কার্নি লিখেছেন, ‘কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে।’
কার্নি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহগুলোতে দুই দেশের দলগুলো সেই ফল অর্জনে কাজ করবে। পারস্পরিক লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তির রূপরেখা নিয়ে সাম্প্রতিক গঠনমূলক আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই এটি এগোচ্ছে।’
অটোয়া ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক কয়েক মাস ধরে তিক্ত হয়েছে বাণিজ্যযুদ্ধে। দুই দেশই একে অপরের পণ্যের ওপর শত শত কোটি ডলারের শুল্ক বসিয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প কানাডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মিত্রদেশের পণ্যে শুল্ক বসিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যের প্রচলিত ধারাকে ওল্টপাল্ট করে দিয়েছেন। কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদারদের অন্যতম।
গত আগস্টে অটোয়া ও ওয়াশিংটনের উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপর ট্রাম্প ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসান, যা দেশটির মোট রপ্তানির ৫.৫ শতাংশ। জবাবে কানাডাও মার্কিন ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি, খামারের সরঞ্জাম, কাঠমণ্ড ও কাগজ এবং ইলেকট্রনিকস পণ্যে সমপরিমাণ শুল্ক আরোপ করে।
গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি ‘খুব শিগগিরই’ হয়ে যাবে বলে তিনি আশা করেন, তবে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা মধ্যবর্তী নির্বাচনেরও একটি ইস্যু হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে মিশিগান ও মেইন অঙ্গরাজ্যে, যেখানে শুল্কের কারণে স্থানীয় ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীরা চাপের মুখে রয়েছেন।
এদিকে কানাডা তার বাণিজ্য বিকল্প বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করছে এবং সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘সহযোগী সদস্য’ হওয়ার প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে। কার্নি প্রস্তাবটির উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রশংসা করে বলেছেন, তার লক্ষ্য প্রচলিত ইইউ সদস্যপদ নয়, বরং একটি ‘অনন্য জোট’।


