যাঁকে ‘ট্রাম্পের রাবার স্ট্যাম্প’ বলতেন, সেই রজার্সকেই সমর্থন দিলেন ডেমোক্র্যাট স্টিভেন্স

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে বড় ধরনের অবস্থান বদলের ঘটনা ঘটেছে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্স রোববার রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেসম্যান মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, অথচ পুরো প্রচারজুড়ে তিনিই ছিলেন রজার্সের সবচেয়ে কড়া সমালোচকদের একজন।
ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় রজার্সের পাশে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে থাকা স্টিভেন্সের সমর্থন জানানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এর আগে তিনি ডেমোক্র্যাট ভোটারদের কাছে নিজেকে রজার্সকে থামানোর সবচেয়ে ভালো সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
স্টিভেন্স মিশিগানের ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রাইমারিতে ড. আবদুল এল-সায়েদের কাছে অল্প ব্যবধানে হেরে যান। হারের পর তিনি প্রথমে এল-সায়েদকেই সমর্থন দিয়েছিলেন।
প্রচারের সময় স্টিভেন্স স্বাস্থ্যসেবা, বাণিজ্য, পরিবেশ, গর্ভপাত, নির্বাচনের সততা ও পররাষ্ট্রনীতি—নানা ইস্যুতে রজার্সের অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। তিনি দুবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন এবং রজার্সকে প্রায়ই ট্রাম্পের অনুগত অনুসারী হিসেবে আখ্যা দিতেন।
গত আগস্টেও তিনি বলেছিলেন, রজার্স হবেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপজ্জনক এজেন্ডার আরেকটি রাবার স্ট্যাম্প’। ২০২৬ সালের জুনে তিনি রজার্সের এলজিবিটিকিউ অধিকারসংক্রান্ত রেকর্ডকে ‘ঘৃণ্য’ বলেছিলেন এবং একই মাসে তাঁকে রাজনীতিতে আসা ‘সর্বশেষ মাগা প্রতারক’ আখ্যা দিয়েছিলেন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি রজার্সকে ‘নির্বাচন অস্বীকারকারী’ বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, তিনি অঙ্গরাজ্যের বাইরে থাকা একজন কোটিপতি, যিনি মিশিগানকে সিনেটে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্য নন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, রজার্স মধ্যবিত্তের জন্য লড়ছেন না এবং নভেম্বরে তাঁকে ফ্লোরিডায় ফেরত পাঠানো হবে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েল বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নিয়ে স্টিভেন্স ও এল-সায়েদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ বাড়ে এবং তাঁদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এর পরই স্টিভেন্স রজার্সের দিকে ঝুঁকে পড়েন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্তে তাঁর কয়েকজন কর্মী পদত্যাগ করেছেন। দেশজুড়ে ডেমোক্র্যাটরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন; তাঁদের আশঙ্কা, এই সমর্থন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।



