ছাঁচের বিষক্রিয়ার ভয়ে তাঁবুতে থাকছেন জেনি ম্যাকার্থি, সাত মাস ধরে চলছে চিকিৎসা

মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক জেনি ম্যাকার্থি জানিয়েছেন, ছাঁচ ও মাইকোটক্সিনের বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি নিজের বাড়ি ছেড়ে তাঁবুতে বসবাস করছেন। নিজের অনুষ্ঠান ‘দ্য জেনি ম্যাকার্থি ওয়ালবার্গ শো’-তে তিনি গত দুই বছরের শারীরিক দুর্ভোগের বিবরণ দিয়েছেন।
ম্যাকার্থির ভাষ্য অনুযায়ী, সমস্যার শুরু ২০২৪ সালে একটি দাঁতের ব্যথা দিয়ে। এরপর তিনি একের পর এক চিকিৎসক ও অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন, দাঁত তোলা হয়েছে এবং শরীরের অপ্রত্যাশিত জায়গায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, গুরুতর দাঁতের সংক্রমণ, বারবার অস্ত্রোপচার, চোয়ালের হাড়ের ক্ষতি ও চোখে বারবার সিস্ট হওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি পায়ে তীব্র টান, মুখ ফুলে যাওয়া, খাবারে অ্যালার্জি বেড়ে যাওয়া ও অনিদ্রার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
পরীক্ষার পর তাঁর চিকিৎসক মোল্ড বা ছাঁচজনিত বিষক্রিয়ার কথা জানান বলে ম্যাকার্থি দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, এই অবস্থা তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছে, ফলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই কঠিন হয়ে পড়েছে।
সুস্থ হওয়ার চেষ্টায় একপর্যায়ে তিনি তাঁবুতে থাকতে শুরু করেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই তাঁবুতে বসবাস করছিলাম।’ সাত মাস ধরে ডিটক্স চিকিৎসা চললেও এখনো অন্য কোথাও থাকতে তিনি ভয় পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ম্যাকার্থি বলেন, পরিবেশের নানা উপাদান নিয়ে তিনি অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর নিজের ভাষায়, সবকিছুই তাঁকে বিষাক্ত করছে বলে মনে হচ্ছিল এবং নিজেকে তিনি বিশৃঙ্খল অবস্থায় থাকা একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাঁর ফাংশনাল মেডিসিন চিকিৎসক বারবার শারীরিক সমস্যা দেখে ছাঁচ পরীক্ষার পরামর্শ দেন। ম্যাকার্থি প্রথমে ধারণাটি উড়িয়ে দিয়েছিলেন, কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল তাঁর বাড়ি পরিষ্কার।
ক্রিসমাসের সময়ের দিকে চিকিৎসক জরুরিভাবে ফোন করে পরীক্ষার ফল জানান বলে তিনি বর্ণনা করেন। চিকিৎসকের বরাতে তিনি বলেন, ধরা পড়া ছাঁচের ধরনটি খিঁচুনির কারণ হতে পারে বলে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল।
চিকিৎসা হিসেবে তিনি প্রতিদিন ইনফ্রারেড সনা, নানা ভিটামিন ও সাপ্লিমেন্ট, একটি গুঁড়ো পানীয়, নাকের স্প্রে ও লিম্ফ্যাটিক ক্যাস্টর অয়েল প্যাক ব্যবহারের কথা জানান। সাত মাস ধরে এই প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি বলেন।
শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক ভয়ও কাটেনি বলে জানান ম্যাকার্থি। তিনি বলেন, এখন যেকোনো ভবনে ঢুকলেই ছাঁচ আছে কি না তা টের পান বলে মনে হয় এবং তেমন মনে হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসেন।



