পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও উৎপাদন-রপ্তানি সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, গঠিত হলো মজুরি বোর্ড
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পোশাক শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষা, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রোববার ২ নভেম্বর রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। মজুরি বোর্ডকে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম মন্ত্রণালয়কে শ্রমিকদের স্বার্থ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার শান্তি, শৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও অগ্রগতি চায়। তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান রয়েছে। সরকার চায় এই শিল্প আরও এগিয়ে যাক, রপ্তানি খাত সমৃদ্ধ হোক এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বাড়ুক।
তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি তিন বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠনের বিধান রয়েছে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বিষয়ে সময় থাকলেও সরকার মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগেই বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। গত শনিবার রাতে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পাওয়ার পর রোববার সকালে মজুরি বোর্ড গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ডে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, পরিবার-পরিজন নিয়ে সম্মানজনক জীবনযাপন এবং আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করবেন। শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের জন্য আলোচনার পথ খোলা রয়েছে; এক্ষেত্রে সহিংস আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন ছিল না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আন্দোলনের নামে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া, বিভিন্ন স্থানে হামলা, যানবাহন ভাঙচুর ও কারখানায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি বলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, যারা সহিংসতায় জড়িত হবে, উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করবে কিংবা বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবে, তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় মুখোশধারীদের অনুপ্রবেশ ও উসকানির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নিরীহ পোশাক শ্রমিকদের ব্যবহার করে সীমান্তের ওপার থেকে কেউ কেউ ইন্ধন জোগাচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, রপ্তানি বাণিজ্য ব্যাহত এবং পোশাকশিল্পের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ ধরনের তৎপরতা সরকার কঠোরভাবে মোকাবিলা করবে এবং সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
আন্দোলনের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা চালুর বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালিকদের উৎপাদন কার্যক্রম চালু রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো কারণে কারখানা বন্ধ হয়ে থাকলে তা যেন সাময়িক হয়। মালিক ও শ্রমিকদের পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং রপ্তানির জন্য পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহ যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং বিএনপির শ্রমিক সংগঠক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।



