দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণের প্রথম দিনেই ফিরিয়ে দেওয়া হলো দেড় হাজার গাড়ি, জরিমানা ৬৮ লাখ রুপি
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে শীতকালীন কর্মপরিকল্পনা (উইন্টার অ্যাকশন প্ল্যান) বাস্তবায়নের প্রথম দিনেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গাড়িকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এদিন জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি আদায় করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ ছাড়া প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ (পিইউসি) সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙায় ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট জরিমানার মধ্যে পিইউসি নিয়ম লঙ্ঘনে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি, সীমান্তে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করায় ২ লাখ রুপি এবং নির্মাণ ও ভাঙার কাজের দূষণের জন্য পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি আদায় হয়েছে।
দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬ মানের আগের মডেলের যানবাহনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ মোট ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ যানবাহনকে সীমান্ত থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এই অভিযানে ১২৭টি চালান দেওয়া হয়েছে এবং ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়েছে; ট্রাফিক পুলিশের দলগুলো এ ক্ষেত্রে ২ লাখ রুপি জরিমানা করেছে।
ফিরিয়ে দেওয়া যানবাহনের মধ্যে ছিল ১৪০টি হালকা মোটরযান, ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যান, ৯৫টি ভারী পণ্যবাহী যান ও ৩৪টি বাস। পরীক্ষা করা ১ হাজার ৪২৩টি মোটরসাইকেল, তিন চাকার যান ও অন্যান্য যানবাহনের মধ্যে ৭৮৯টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে।
পরিবেশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গন্তব্য দিল্লি নয়—এমন ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহনও পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে; তবে এগুলোর ক্ষেত্রে কোনো চালান দেওয়া হয়নি।
সিএনজি-চালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার যানবাহন এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে। এ ধরনের ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে দিল্লিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
বৈধ পিইউসি সনদ ছাড়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে পৃথক অভিযানে ৫৬৬টি চালান ও ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালানে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি এবং পরিবহন বিভাগ ৭৩টি চালানে ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করেছে।
নির্মাণ ও ভাঙার কাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চলেছে। মোট ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে ৩২টিতে ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়েছে ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি।
বড় নির্মাণস্থল ছিল ৯১টি, যার ১৬টিতে নিয়ম ভাঙার প্রমাণ মিলেছে; সেখানে দুটি কাজ বন্ধের নির্দেশ, চারটি কারণ দর্শানোর নোটিশ ও ৪ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ আরোপ করা হয়। ৫০০ বর্গমিটারের কম আয়তনের ২০৯টি ছোট নির্মাণস্থলের মধ্যে ১৭টিতে লঙ্ঘন পাওয়া গেছে, যার বিরুদ্ধে ১৫টি কাজ বন্ধের নির্দেশ, ১৫টি নোটিশ ও ৫ লাখ ৮০ হাজার রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩০০টি স্থলের বিরুদ্ধে ১৭টি কাজ বন্ধের নির্দেশ ও ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি হয়েছে।
দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, অভিযানকারী দলগুলো যানবাহন প্রবেশের বিধিনিষেধ, পিইউসি সনদ ও নির্মাণকাজের ধুলা নিয়ন্ত্রণের নিয়ম মানা হচ্ছে কি না পরীক্ষা করছে। তিনি জানান, এদিন ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা, পিইউসি সনদ না থাকায় ৫৬৬টি চালান এবং ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।
শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার আওতায় ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে এসব বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত বিএস-৬-পূর্ব মডেলের যানবাহন ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারবে না।
কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ১০ ডিসেম্বর থেকে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত সব ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুমোদিত পার্কিং এলাকায় গাড়ি রাখার ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে এবং সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরগুলোকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ কর্মীকে সশরীর অফিস করাতে বলা হয়েছে।



