ইংল্যান্ডের সব জরুরি বিভাগে চালু হচ্ছে শিশুদের অবস্থা অবনতির বিশ্বের বৃহত্তম আগাম সতর্ক ব্যবস্থা

অসুস্থ শিশুদের অবস্থা বিপজ্জনকভাবে খারাপ হচ্ছে কি না, তা দ্রুত ধরতে ইংল্যান্ডের সব জরুরি বিভাগে (এ অ্যান্ড ই) চালু হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ‘আগাম সতর্ক ব্যবস্থা’। এনএইচএস নেতারা এই জাতীয় শিশু আগাম সতর্ক ব্যবস্থা (পিউস) চালুর কথা জানিয়েছেন।
পিউস ব্যবস্থায় শিশুদের গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক লক্ষণ পরিমাপ করে একটি স্কোর দেওয়া হয়, যা দেখে বোঝা যায় শিশুটির আরও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন কি না। এই ব্যবস্থা ইতিমধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে; তবে এনএইচএস ইংল্যান্ড জানিয়েছে, এই শীতেই প্রথমবার এটি জরুরি বিভাগে ব্যবহার করা হবে।
ইংল্যান্ডজুড়ে এই ব্যাপক চালুর ফলে পিউস হবে বিশ্বের বৃহত্তম প্রমিত স্কোরিং ব্যবস্থা। চিকিৎসক ও নার্সরা এর মাধ্যমে রক্তচাপ, হৃদস্পন্দন, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার, অক্সিজেনের মাত্রা ও চেতনার অবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ পরিমাপ, লিপিবদ্ধ ও মূল্যায়ন করতে পারবেন।
স্কোর বেশি হলে চিকিৎসাকর্মীরা বুঝতে পারবেন শিশুটির অবস্থার অবনতি হচ্ছে। তবে এনএইচএস ইংল্যান্ড বলেছে, এই ব্যবস্থা পেশাদার বিচারবুদ্ধি কিংবা শিশুর অবস্থা সম্পর্কে বাবা-মা, পরিচর্যাকারী ও শিশুদের মতামতের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়নি; স্কোর কম হলেও উদ্বেগ জানালে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
ইংল্যান্ডের প্রধান নার্সিং কর্মকর্তা ডানকান বার্টন বলেন, ‘ব্যস্ত জরুরি বিভাগে কর্মীদের দ্রুত বুঝতে হয় কোনো শিশুর অবস্থার অবনতি হচ্ছে কি না। এই প্রমিত পদ্ধতি তাঁদের সতর্ক সংকেত চিনতে, উদ্বেগ জানাতে এবং প্রতিটি মুহূর্ত গুরুত্বপূর্ণ হলে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।’ তিনি আরও বলেন, এতে শিশু, বাবা-মা ও পরিচর্যাকারীদের উদ্বেগ শোনা এবং সে অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া নিশ্চিত হবে।
ব্যবস্থাটিতে বয়স অনুযায়ী আলাদা চার্ট রাখা হয়েছে, যাতে শিশু, বাচ্চা ও তরুণদের ক্ষেত্রে কোন লক্ষণ অস্বাভাবিক অবনতির ইঙ্গিত দেয়, তা বয়স অনুযায়ী বোঝা যায়। ব্যস্ত পরিবেশে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করার জন্য এটি জরুরি বিভাগের কথা ভেবেই বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ইংল্যান্ডে প্রতি বছর ৬০ লাখের বেশি শিশু জরুরি বিভাগে আসে; প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একই ধরনের জাতীয় আগাম সতর্ক ব্যবস্থা ইতিমধ্যে এনএইচএস হাসপাতালগুলোতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
রয়েল কলেজ অব পেডিয়াট্রিকস অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের (আরসিপিসিএইচ) নীতিবিষয়ক ভাইস-প্রেসিডেন্ট ড. মাইক ম্যাককিন বলেন, শীতের ব্যস্ত ও চ্যালেঞ্জিং সময়ের আগেই এই উদ্যোগ চালু হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তাঁর ভাষায়, জরুরি বিভাগের পিউস চার্ট শিশু বিশেষজ্ঞ ও শিশু স্বাস্থ্য দলগুলোকে হাসপাতালে শিশুদের অবনতি ধরতে সাহায্য করার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।
রয়েল কলেজ অব নার্সিংয়ের অধ্যাপক লিন উলসি বলেন, আগাম পদক্ষেপ রোগীর নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে, এবং এনএইচএসের অন্য অংশে ইতিমধ্যে জীবন বাঁচানো এই ব্যবস্থা নার্সিং কর্মীদের জন্য একটি জরুরি হাতিয়ার। তবে ব্যবস্থাটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পর্যাপ্ত নার্সিং কর্মী, সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি হবে বলেও তিনি বলেন।
এনএইচএস ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের ৯০টির বেশি হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের জন্য জাতীয় পিউস ব্যবস্থা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেসব হাসপাতালে রোগীদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের হার ধারাবাহিকভাবে কম। পাশাপাশি এনএইচএস ইংল্যান্ড জরুরি বিভাগে শিশুদের চিকিৎসার জন্য নতুন জরুরি মানদণ্ড তৈরি করছে, যার অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শিশুদের করিডোরে চিকিৎসা বন্ধ করা।




