স্ট্রোক চেনার ছয় লক্ষণ: ‘বি ফাস্ট’ মনে রাখলেই বাঁচতে পারে জীবন

স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত চিনতে পারলে জীবন বাঁচানো এবং স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব—এমনটাই বলছে আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশন। সংস্থাটির পরামর্শ, ইংরেজি ‘বি ফাস্ট’ (BE FAST) শব্দগুচ্ছের ছয়টি অক্ষর মনে রাখলেই স্ট্রোকের ছয়টি প্রধান লক্ষণ মনে রাখা যায়।
এই পরামর্শের গুরুত্ব সামনে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফির ঘটনায়। ৫৩ বছর বয়সী মারফি শনিবার ছেলের হকি খেলা দেখার সময় স্ট্রোকে আক্রান্ত হন; তাঁর কর্মীদের বিবৃতি অনুযায়ী, তিনি হাতে অসাড়তা অনুভব করেছিলেন—যা ‘বি ফাস্ট’-এর A অর্থাৎ বাহুর দুর্বলতার লক্ষণ। তাঁর দপ্তর জানিয়েছে, তিনি দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ায় তাঁর আরোগ্যের সম্ভাবনা চমৎকার—আর এই দ্রুত সাড়া দেওয়াই ‘বি ফাস্ট’-এর শেষ অক্ষর T, অর্থাৎ সময়ের মূল কথা।
‘বি ফাস্ট’-এর প্রথম অক্ষর B হলো ব্যালান্স বা ভারসাম্য। মাথা ঘোরা, হাঁটতে অসুবিধা হওয়া কিংবা হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে।
দ্বিতীয় অক্ষর E হলো আইজ বা চোখ। আক্রান্ত ব্যক্তির দৃষ্টিতে সমস্যা হচ্ছে কি না, তা খেয়াল করতে হবে—ঝাপসা দেখা, একই জিনিস দুটি দেখা কিংবা এক চোখে দৃষ্টি হারানো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
তৃতীয় অক্ষর F হলো ফেস বা মুখ। ব্যক্তিকে হাসতে বলতে হবে; তাঁর হাসি কি অসম? মুখের এক পাশে অসাড়তা বা ঝুলে পড়া স্ট্রোকের লক্ষণ।
চতুর্থ অক্ষর A হলো আর্ম বা বাহু—মারফির ক্ষেত্রে যেমন হয়েছিল। এক বাহুতে অসাড়তা কিংবা দুর্বলতা দেখা দিলে ব্যক্তিকে দুই হাতই তুলতে বলতে হবে; দেখতে হবে, এক হাত নিচের দিকে নেমে যাচ্ছে কি না।
পঞ্চম অক্ষর S হলো স্পিচ বা কথা। কথা বলতে অসুবিধা হওয়া আরেকটি সাধারণ লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তি একটি সহজ বাক্য পুনরাবৃত্তি করতে পারেন কি না, তা দেখতে হবে; তাঁর কথা জড়ানো বা বুঝতে কষ্ট হয় কি না, সেটিও লক্ষণ।
ষষ্ঠ ও শেষ অক্ষর T হলো টাইম বা সময়। এসব লক্ষণের কোনোটি নিজের বা পাশের কারও মধ্যে দেখা গেলে যত দ্রুত সম্ভব জরুরি নম্বরে (যুক্তরাষ্ট্রে ৯১১) ফোন করতে হবে। আমেরিকান স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের মতে, চিকিৎসকদের কাছে যত দ্রুত পৌঁছানো যায়—যত ‘ফাস্ট’ হওয়া যায়—বেঁচে থাকা ও পুরোপুরি সেরে ওঠার সুযোগ তত বেশি, এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও তত কমানো যায়।
স্ট্রোক ঘটে যখন মস্তিষ্কে বা মস্তিষ্কের ভেতরে রক্তপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। কোনো ধমনি বন্ধ হয়ে গেলে কিংবা মস্তিষ্কের কোনো রক্তনালি ফেটে গেলে তা ঘটতে পারে। অক্সিজেন থেকে বঞ্চিত মস্তিষ্কের টিস্যু স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফল দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা কিংবা মৃত্যু।
এ ছাড়া স্ট্রোকের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণের মধ্যে রয়েছে তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি এবং শরীরের এক পাশে অসাড়তা।
আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্রোক যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর চতুর্থ প্রধান কারণ; ২০২৩ সালে দেশটিতে স্ট্রোকে ১ লাখ ৬২ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।




