হাঁটার গতিতেই লুকিয়ে থাকতে পারে আয়ুর ইঙ্গিত, বলছে ৪ হাজারের বেশি বয়স্ক মানুষের ওপর গবেষণা

মানুষ সাধারণত যে গতিতে হাঁটে, তা তার সার্বিক স্বাস্থ্য ও আয়ু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে—এমনটাই বলছে নতুন এক গবেষণা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে চিকিৎসা সাময়িকী জামা নেটওয়ার্ক ওপেনে।
গবেষণায় যুক্তরাজ্যের ৪ হাজার ৬৭ জন প্রাপ্তবয়স্ককে অনুসরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল প্রায় ৬৯ বছর। গবেষকেরা দেখতে চেয়েছিলেন, তাদের স্বাভাবিক হাঁটার গতির সঙ্গে সময়ের সঙ্গে মৃত্যুর ঝুঁকির কোনো সম্পর্ক আছে কি না।
অংশগ্রহণকারীরা প্রথমে নিজেদের স্বাভাবিক গতিতে একটি সংক্ষিপ্ত হাঁটার পরীক্ষা দেন। এরপর টানা নয় দিন তাদের কবজিতে কার্যকলাপ মাপার যন্ত্র পরিয়ে দৈনন্দিন জীবনে হাঁটার গতি মাপা হয়।
প্রায় ১২ বছর ধরে অনুসরণের পর দেখা গেছে, পরীক্ষাগারে হোক বা দৈনন্দিন জীবনে—দুই ক্ষেত্রেই যাঁরা দ্রুত হাঁটতেন, তাঁদের মৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলক কম ছিল। অন্যান্য স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার বিষয় হিসাব করার পরও এই সম্পর্ক টিকে ছিল। এই সময়ের মধ্যে মোট ৭৩৯ জন অংশগ্রহণকারী মারা যান।
গবেষণায় যুক্ত না থাকা সেন্ট লুইসের হাউসফিট ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যান্ড ফিটনেসের প্রধান নির্বাহী ও বোর্ড-সনদপ্রাপ্ত বয়স্ক-বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বেথ টেমপলিন ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, হাঁটার গতি শরীর কতটা ভালোভাবে কাজ করছে তার একটি বিস্তৃত চিত্র দেয়।
টেমপলিন বলেন, ফিজিক্যাল থেরাপিতে হাঁটার গতিকে ষষ্ঠ অত্যাবশ্যকীয় লক্ষণ বলা হয়, কারণ এটি দেখায় শরীরের অনেকগুলো ব্যবস্থা একসঙ্গে কতটা ভালোভাবে কাজ করছে। দ্রুত হাঁটতে হলে শক্তিশালী পা, সুস্থ হৃদপিণ্ড ও ফুসফুস, ভালো ভারসাম্য এবং সবকিছু সমন্বয় করতে পারা মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র প্রয়োজন।
তাঁর মতে, হাঁটার গতি কমতে শুরু করা প্রায়ই একটি আগাম সতর্ক সংকেত—কখনো কখনো পরীক্ষাগারের কোনো রিপোর্টে ধরা পড়ার আগেই কোনো একটি ব্যবস্থার অবনতির ইঙ্গিত পাওয়া যায় এ থেকে।
বয়স্কদের হাঁটার গতি ও শারীরিক সক্ষমতা বাড়াতে শুধু বেশি কদম হাঁটাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন টেমপলিন। তাঁর পরামর্শ, অভ্যাসের পাশাপাশি শক্তি গড়তে হবে—কারণ গতি আসে শক্তি ও ভারসাম্য থেকে।
এ জন্য তিনি সহজ কিছু ব্যায়ামের পরামর্শ দিয়েছেন—যেমন হাতের সাহায্য ছাড়া চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ানো এবং কাউন্টার ধরে পায়ের গোড়ালি তোলার ব্যায়াম। পাশাপাশি অল্প সময়ের জন্য দ্রুত হাঁটার অভ্যাসের কথাও বলেছেন তিনি: গা গরম করার পর এক মিনিট দ্রুত হাঁটা, তারপর দুই মিনিট ধীরে হাঁটা এবং ধীরে ধীরে দ্রুত হাঁটার সময় বাড়ানো।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই ফলাফলের অর্থ এই নয় যে শুধু দ্রুত হাঁটলেই মানুষ বেশি দিন বাঁচবে। টেমপলিন বলেন, এই গবেষণা একটি সম্পর্ক দেখিয়েছে, কিন্তু দ্রুত হাঁটা নিজে থেকেই আয়ু বাড়ায়—এমন প্রমাণ দেয়নি।
গবেষকেরা নিজেরাও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছেন। গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত অংশগ্রহণকারীরা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তুলনায় সাধারণত বেশি সুস্থ ছিলেন। আবার কবজির যন্ত্র দিয়ে দৈনন্দিন হাঁটার গতি মাপার কোনো একক মানসম্মত পদ্ধতিও নেই। ফলাফল অন্য জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা জানতে আরও গবেষণা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।




