ইস্তাম্বুলে বৈঠক: শুল্ক কমানো ও তুর্কি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর থাকা অতিরিক্ত শুল্ক কমানো এবং কাস্টমসসংক্রান্ত বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে বাংলাদেশের চামড়া, চামড়াবহির্ভূত পণ্য, তৈরি পোশাক ও জাহাজ নির্মাণ খাতে তুরস্কের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর) তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এই আহ্বান জানান। ইস্তাম্বুলের হিলটন হোটেলে বৈঠকটি হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাবিষয়ক স্থায়ী কমিটির (কমসেক) ৪২তম মন্ত্রিপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে বাণিজ্যমন্ত্রী এখন তুরস্ক সফর করছেন। এই সফরের ফাঁকেই দুই মন্ত্রীর বৈঠক হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক বাড়ানোর সুযোগ এবং বিদ্যমান বাধা নিয়ে আলোচনা হয়। তুরস্কের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য ঢোকার ক্ষেত্রে শুল্ক ও কাস্টমসসংক্রান্ত বাধার বিষয়টি তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এসব বাধা দূর করা এবং অতিরিক্ত শুল্ক কমাতে তিনি তুরস্কের বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা চান।
বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় শিল্পখাতে বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে তুরস্কের ব্যবসায়ীদের প্রতিও আহ্বান জানান খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও বড় বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়ানো এবং বাধা দূর করার বিষয়ে দুই পক্ষই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বৈঠকে দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তুরস্ক বাংলাদেশের পুরোনো রপ্তানি বাজার। তবে গত এক দশকে এই বাজারে রপ্তানি কমেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে তুরস্কে প্রায় ৮৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছিল, যা তুরস্কে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানি। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ছিল ৬২ কোটি ২০ লাখ ডলারের।
একসময় বাংলাদেশ তুরস্কের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেত। পরে সেই সুবিধা উঠে গিয়ে শুল্কনীতি বদলে যাওয়ায় রপ্তানি বড় ধাক্কা খায়। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তুরস্কে রপ্তানি হয়েছে ৫৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের পণ্য, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ কম। সর্বোচ্চ রপ্তানির বছরের তুলনায় রপ্তানি এখনো প্রায় ৩১ শতাংশ কম।
তবে চলতি অর্থবছরের শুরুটা ভালো হয়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে তুরস্কে রপ্তানি হয়েছে ২১ কোটি ডলারের বেশি পণ্য; আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি দ্বিগুণ হয়েছে। তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে আরও বেশি, ১২৩ শতাংশ।
বাংলাদেশ থেকে তুরস্ক মূলত তৈরি পোশাক ও পাটপণ্য কেনে। বিপরীতে তুরস্ক থেকে বস্ত্র খাতের যন্ত্রপাতি ও রাসায়নিক আমদানি করে বাংলাদেশ। দুই দেশের মধ্যে এখন বছরে প্রায় ১৩০ কোটি ডলারের বাণিজ্য হয়। এটি ২০০ কোটি ডলারে নেওয়ার লক্ষ্যের কথা বলছে দুই দেশ। গত জুনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের ঢাকা সফরে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।



