অস্ট্রেলিয়ায় ‘তীব্র ও দীর্ঘ’ মন্দার পূর্বাভাস, মঙ্গলবারই পঞ্চম সুদহার বৃদ্ধির শঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি ‘তীব্র ও দীর্ঘ’ মন্দার মুখে পড়তে যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির বড় ব্যাংকগুলোর অর্থনীতিবিদেরা। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) পঞ্চমবারের মতো সুদহার বাড়াতে পারে বলেও ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সুদহার বাড়লে নগদ সুদের হার ২০০৮ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে। এতে অর্থনীতি মন্দায় তলিয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা বাড়ছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (সিবিএ) অস্ট্রেলীয় অর্থনীতি বিভাগের প্রধান বেলিন্ডা অ্যালেন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘায়িত সংঘাত, বাড়ির দামের পতন এবং আরও কঠোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারণে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসবে মাত্র ১ শতাংশে, যা আগের পূর্বাভাস ১ দশমিক ৮ শতাংশের প্রায় অর্ধেক। ২০২৭ সালজুড়ে প্রবৃদ্ধি থাকবে আরও সামান্য বেশি, আনুমানিক ১ দশমিক ১ শতাংশ।
অ্যালেন বলেন, নতুন বছরের মধ্যে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাবে বলে তিনি আশা করেছিলেন; কিন্তু এখন অর্থনীতি ‘আরও গভীরে এবং দেরিতে’ তলানিতে পৌঁছাবে বলে মনে হচ্ছে। তাঁর মতে, এই হতাশাজনক চিত্রের প্রধান কারণ তেলের দাম প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি থাকা।
বেশির ভাগ মানুষ ভেবেছিলেন, এত দিনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের নিষ্পত্তি হয়ে তেলের দাম স্বাভাবিক হয়ে আসবে। কিন্তু তা হয়নি। বিশ্ববাজারে তেলের দামের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড জুলাইয়ের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ মার্কিন ডলার থেকে বেড়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আবার ১১০ ডলারের ওপরে উঠেছে।
কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স গত মাসে সতর্ক করেছিলেন, ডিসেম্বরের মধ্য-বছরের বাজেট হালনাগাদে অর্থনৈতিক চিত্র আরও হতাশাজনক দেখাবে। এর মধ্যেই ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংক (এনএবি) তাদের পূর্বাভাসে বড় ধরনের কাটছাঁটের কথা জানিয়েছে।
এনএবির অস্ট্রেলীয় অর্থনীতি বিভাগের প্রধান গ্যারেথ স্পেন্স বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেকারত্ব হয়তো আগের ধারণার চেয়ে বেশি বাড়াতে হবে। তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের শেষ নাগাদ বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সিবিএর পূর্বাভাসে এই হার সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ১ শতাংশ।
স্পেন্সের মতে, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি স্বাভাবিক প্রবণতার নিচে থাকবে এবং আগামী বছর প্রবৃদ্ধি থাকবে মাত্র ১ শতাংশ। সোমবার সকালে সিডনিতে আরবিএর কার্যালয়ের সামনে প্রত্যাশিত সুদহার বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শ্রমিক সংগঠনের নেতারা প্রতিবাদ জানানোর সময় স্পেন্স বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আবারও সুদহার বাড়াতে হতে পারে—এমন ঝুঁকি রয়েছে।
নতুন তথ্যে দেখা গেছে, অস্ট্রেলিয়ার সম্পত্তি বাজারের মন্দা রেকর্ড গভীরতমগুলোর একটি হওয়ার পথে রয়েছে। এএমপির প্রধান অর্থনীতিবিদ শেন অলিভার বলেন, আগামী বছরের শেষভাগে স্থিতিশীল হওয়ার আগে বাড়ির দাম ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে; সিডনিতে সম্পত্তির দাম ইতিমধ্যে সাম্প্রতিক সর্বোচ্চ থেকে ১০ শতাংশ কমেছে।
অলিভার বলেন, দুর্বল সম্পত্তি বাজার বাড়ি নির্মাণ খাতের ওপরও চাপ ফেলবে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াবে। অর্থনৈতিক সংকোচন তাঁর মূল ধারণা না হলেও মন্দার ঝুঁকি ‘তাৎপর্যপূর্ণ ও বাড়ন্ত’ বলে সতর্ক করেন তিনি; মঙ্গলবার আরবিএ প্রত্যাশামতো সুদহার বাড়ালে সেই ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত উঠতে পারে।



