অস্ট্রেলিয়ায় সুদহার আবার বাড়লে না-খোলা দোকান আর চিরতরে হারানো চাকরির সতর্কবার্তা নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ারের

অস্ট্রেলিয়ায় প্রত্যাশিত আরেক দফা সুদহার বৃদ্ধি চাকরি হারানো ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণ হবে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সবচেয়ে বড় অঙ্গরাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিনস। অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোকে ব্যয় সংকোচনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার (আরবিএ) নগদ সুদহারের সিদ্ধান্তের আগে মিনসের এই মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকারের ওপর আরও চাপ বাড়াবে। বাজারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ব্যাংকটি ২০২৬ সালে পঞ্চমবারের মতো সুদহার বাড়াতে পারে; হার ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশে উঠলে তা হবে ১৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
মিনস বলেন, আরবিএর জন্য সুদহার বাড়ানো ‘সোজাসাপটা সিদ্ধান্ত’ নয়। তাঁর ভাষায়, ‘আরেক দফা সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব নিউ সাউথ ওয়েলসের অর্থনীতিতে বিশাল হবে। কিছু চাকরি যাবে, যা আর কখনো ফিরবে না। আরেক দফা হার বাড়লে কিছু দোকান বন্ধ হবে, যা আর খুলবে না। এ বিষয়ে হালকা হওয়া যাবে না; এটি তাঁদের জন্য খুবই কঠিন সিদ্ধান্ত।’
সরকারি ব্যয় মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে কি না জানতে চাইলে মিনস বলেন, ‘আমার মনে হয় সবাইকেই যার যার অংশটুকু করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ ও কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্স নিশ্চিত করেছেন, আগামী মাসের মধ্যবর্ষ বাজেট হালনাগাদে একটি সাশ্রয় প্যাকেজ থাকবে; পাশাপাশি তাঁরা ইরানের যুদ্ধসহ আন্তর্জাতিক কারণগুলোকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন।
সরকারের ভেতরেও অর্থনীতি পরিচালনা নিয়ে হতাশা বাড়ছে। লেবার দলের এক এমপি গার্ডিয়ান অস্ট্রেলিয়াকে বলেছেন, সুদহারের সিদ্ধান্তের আগেই ভোটারদের ক্ষোভ বেশি। আরেক লেবার এমপির ভাষ্য অনুযায়ী, আলবানিজ ও চালমার্স আশা করছেন, ২০২৫ সালের নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের যে ধারা দেখা গিয়েছিল, আগামী বছরও তেমনই হবে; ২০২২ সালের শেষ দিকে প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছানো মূল্যস্ফীতি নির্বাচনের আগে রিজার্ভ ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে নেমে এসেছিল। ওই এমপি বলেন, ‘এটি চক্রের মাঝামাঝি সময় এবং মানুষ বিরক্ত।’
মঙ্গলবার আরবিএর সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় আলবানিজ অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় কমনওয়েলথ নেতাদের সম্মেলনে থাকবেন; ফলে সরকারের পক্ষে কথা বলতে হবে চালমার্সকে। পরিবেশমন্ত্রী মারি ওয়াট এবিসি রেডিওতে সরকারের ব্যয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, অস্ট্রেলিয়াই একমাত্র দেশ নয় যেখানে মূল্যস্ফীতির চাপ চলছে, এটি একটি বৈশ্বিক ঘটনা।
লেবার ফ্রন্টবেঞ্চার তানিয়া প্লিবারসেক চালমার্সের পক্ষে বলেন, সাশ্রয় অর্থবহ হবে কিন্তু পরিবারগুলোর ক্ষতি করবে না। তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে এমন কোনো সংস্কারবাদী কোষাধ্যক্ষ নেই, যিনি বড় পরিবর্তন আনার সময় সমালোচনার মুখে পড়েননি। আমরা সবাই জিমের পাশে আছি।’
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল অব ট্রেড ইউনিয়নসের (এসিটিইউ) সম্পাদক মেলিসা ডোনেলি সিডনিতে আরবিএর সদর দপ্তরের বাইরে এক বিক্ষোভে সতর্ক করে বলেন, শ্রমিকরা ‘আরেক দফা সুদহার বৃদ্ধি সহ্য করতে পারবেন না’। তিনি বড় ব্যাংক ও সুপারমার্কেট জায়ান্টদের গ্রাহকদের ওপর চাপ বাড়ানোর জন্য দায়ী করেন এবং বলেন, এই মূল্যস্ফীতি সংকট শ্রমিকরা তৈরি করেননি, এটি মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্পের যুদ্ধের কারণে হয়েছে, কিন্তু প্রতিদিন এর যন্ত্রণা শ্রমিকরাই ভোগ করছেন।
অস্ট্রেলিয়ান কাউন্সিল অব সোশ্যাল সার্ভিসের প্রধান নির্বাহী ক্যাসান্দ্রা গোল্ডি আরবিএকে সুদহার না বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আবাসন ও জ্বালানির দাম এবং পকেট থেকে দেওয়া চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পদক্ষেপ চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উচ্চ সুদহার পরিকল্পিতভাবেই বেকারত্ব তৈরি করে’ এবং হার ৫ শতাংশের দিকে বা তার ওপরে উঠলে তা হবে বিপর্যয়কর।
সোমবারের নিউজপোলে লেবারের প্রাথমিক ভোট দাঁড়িয়েছে ২৭ শতাংশ, ওয়ান নেশনের ২৮ শতাংশের পেছনে, তবে দলটি কোয়ালিশনের ২১ শতাংশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। বিরোধী দলনেতা অ্যাঙ্গাস টেলর অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে এবং রিজার্ভ ব্যাংককেই সব কঠিন কাজ করতে হচ্ছে।




