জামালপুর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল: সাত বছরেও শুরু হয়নি মূল ভবনের নির্মাণ

২০১৯ সালের জুনে চালু হওয়ার কথা ছিল জামালপুর মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল। কিন্তু সাত বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি মূল ভবনের নির্মাণকাজ। নিজস্ব হাসপাতাল ছাড়াই চলছে মেডিকেল কলেজের কার্যক্রম।
এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপ। অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুরের রোগীদের ছুটতে হচ্ছে ময়মনসিংহ ও ঢাকায়।
জেলা গণপূর্ত বিভাগ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর শহরের মনিরাজপুর এলাকায় ২০১৬ সালের জুনে জামালপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জামালপুর গণপূর্ত বিভাগ।
২০১৯ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়। পরে আরো দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় একাডেমিক ভবন, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডরমিটরি, চিকিৎসকদের আবাসন, স্টাফ নার্স ডরমিটরি, টিচিং মর্গ, নার্সিং কলেজ ভবন ও হোস্টেলসহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। তবে বেশিরভাগ স্থাপনাই অব্যবহৃত পড়ে আছে।
শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল চালু হলেও সেখান থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পুরোনো টিনশেড ভবনে গিয়ে ক্লাস করতে হচ্ছে। হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জায়গায় এখনো নির্মাণকাজ শুরু হয়নি।
এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ধারণক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকছেন। শয্যাসংকটে অনেক রোগীকে মেঝে ও বারান্দায় মাদুর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপও করতে হচ্ছে এই হাসপাতালেই।
শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাসে এখনো পাঠদান শুরু হয়নি, ফলে পুরোনো ও জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে এবং আবাসিক হল থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে ক্লাস করতে হয়। নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় ব্যবহারিক শিক্ষা ও ইন্টার্নশিপের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী মাজেদুল হাসান বলেন, নিজস্ব হাসপাতাল না থাকায় জেনারেল হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ করতে হচ্ছে; সেখানে রোগীর অতিরিক্ত চাপ ও জায়গার সংকটে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয়। তিনি দ্রুত হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করে মেডিকেল কলেজের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
জামালপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কলেজের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম ও মেডিকেল ইনস্ট্রুমেন্ট সরবরাহের প্রক্রিয়া চলছে; এসব কাজ শেষ হলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কলেজের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রকল্পের অন্যান্য কাজ প্রায় শেষ হলেও ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।
জামালপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রোকনুজ্জামান বলেন, হাসপাতাল ভবন নির্মাণের দরপত্র প্রক্রিয়া মন্ত্রণালয়ে চলমান রয়েছে; আশা করা যাচ্ছে অল্প কিছুদিনের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে প্রয়োজন অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।




