সাড়ে চার ঘণ্টার অবরোধ শেষে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরে শ্রমিকদের অবরোধে বন্ধ হয়ে যাওয়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে সাড়ে চার ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে গেলে যান চলাচল শুরু হয় এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত তা স্বাভাবিক ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ৮টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শ্রমিকরা। পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে তাঁরা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন।
অবরোধের সময় শ্রমিকরা ঝুট কাপড়, বাঁশ ও কাঠ জড়ো করে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ, জেলা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, শ্রমিকদের অবরোধের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করতে শিল্প পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করেন।
এদিন গাজীপুরের কোনাবাড়ী, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, ভোগড়া, নাওজোর ও সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন। একপর্যায়ে তাঁরা ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন, এতে যানবাহন চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে এবং ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার মানুষ।
কোনো কোনো এলাকা থেকে শ্রমিকরা সরে গেলেও কিছু এলাকায় দুপুর পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। এর মধ্যে নাওজোর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে এবং সফিপুর এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করেন শ্রমিকরা। এ ছাড়া কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়।
পুলিশ, বিজিবি ও শ্রমিকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও টিয়ারশেল ছোড়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় কয়েকজন সাংবাদিক ও বিজিবির এক সদস্য আহত হন।
এমন পরিস্থিতিতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকার দেড় শতাধিক পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ সোমবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন জানান, দুপুর থেকে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। পুলিশের গাড়িসহ দুটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিক্ষোভ, অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।




