মধ্যপ্রাচ্য যেন বড় শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দান না হয়: শি জিনপিং

মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলকে যেন কোনো বড় শক্তির ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও দ্বন্দ্বের ক্ষেত্র বানিয়ে তোলা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার (২ নভেম্বর) ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল-সাঈদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, চীন মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরব দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শি বৈঠকে বলেন, বিশ্ব বর্তমানে এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্য-উপসাগরীয় অঞ্চল কোনোমতেই বড় শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভূরাজনৈতিক সংঘাতের ক্ষেত্র হওয়া উচিত নয়; এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সব পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টা ও সুরক্ষা প্রয়োজন।
যুদ্ধ বন্ধে চীন সবসময় বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই অঞ্চলের নিরাপত্তাজনিত জটিলতা নিরসনে চীন তাদের প্রজ্ঞা ও সমাধান দিতে প্রস্তুত।
শি জিনপিং বলেন, উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) ভুক্ত রাষ্ট্রসহ আরব দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা অর্জনে একসঙ্গে কাজ করতে চীন ইচ্ছুক।
বৈঠকের পর প্রকাশিত ২০ দফার এক যৌথ বিবৃতিতে উভয় পক্ষ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক ও নিরাপদ নৌচলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে ঐকমত্য প্রকাশ করে।
একই বিবৃতিতে আমেরিকা ও ইরানকে যেকোনো সামরিক সংঘাতের পথ ছেড়ে শান্তিপূর্ণ উপায় বেছে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। দ্বন্দ্ব নিরসনে গত জুনে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ফিরে গিয়ে পুনরায় সংলাপ শুরুর তাগিদও দেওয়া হয় বিবৃতিতে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চীন কূটনৈতিকভাবে কিছুটা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও মার্কিন-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধের জেরে সৃষ্ট উত্তেজনা প্রশমনে বর্তমানে তারা তৎপরতা বাড়িয়েছে।
এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও শিপিং খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



