মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাতে টিভি নেটওয়ার্কের মুখোমুখি স্ট্রিমাররা, ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর নির্বাচন’ বলছেন বিশ্লেষক

মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাতে ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবার মূলধারার কোনো টেলিভিশন নেটওয়ার্কের হয়ে কাজ করছেন না জিম অ্যাকোস্টা। সিএনএনের প্রায় ১৮ বছরের পরিচিত মুখ অ্যাকোস্টা গত বছর নেটওয়ার্কটি ছেড়েছেন। এবার তিনি নিজের সরাসরি সম্প্রচার করছেন ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যা প্রচারিত হবে ইউটিউব ও তাঁর সাবস্ট্যাক প্ল্যাটফর্মে। সম্প্রচারটির আয়োজক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পলিটিকস।
অ্যাকোস্টার এই সম্প্রচারে যোগ দিচ্ছেন রৈখিক টেলিভিশনের আরেক তারকা, ‘টুডে’ শোর সাবেক সহ-উপস্থাপক কেটি কুরিক। সিএনএনের আরেক সাবেক মুখ ও নতুন মিডিয়ায় সক্রিয় ডন লেমনও হাজির হতে পারেন বলে জানিয়েছেন অ্যাকোস্টা। তিনি বলেন, নতুন মুখ ও ভিন্ন ধরনের নির্বাচনী প্রচার খুঁজছেন যাঁরা, এই সম্প্রচার তাঁদের সেই অভিজ্ঞতাই দেবে। এনবিসি নিউজের তথ্য বিশ্লেষক স্টিভ করন্যাকির ধাঁচে ইন্টার্যাক্টিভ ছোঁয়া-পর্দার যুদ্ধক্ষেত্র-মানচিত্র ব্যবহার করে বিশ্লেষণ দেবেন তিনি।
পিয়ার্স মরগ্যানের মিডিয়া কোম্পানি আনসেন্সর্ডের প্রধান নির্বাহী রাশিদা জোন্সের পূর্বাভাস, মঙ্গলবারের এই মধ্যবর্তী নির্বাচন ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর নির্বাচন’ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে — যখন স্বাধীন সাংবাদিকদের স্ট্রিমিং সম্প্রচার ঐতিহ্যবাহী নেটওয়ার্কগুলোকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফেলবে। জোন্স ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় চার বছর ধরে এমএসএনবিসি (বর্তমান নাম এমএস নাও) পরিচালনা করেছেন। মরগ্যানের ‘পিয়ার্স মরগ্যান আনসেন্সর্ড’ স্ট্রিমিং সম্প্রচারের ইউটিউব গ্রাহক প্রায় ৪৫ লাখ। নির্বাচনের রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে মরগ্যানের সঞ্চালনায় কয়েক ঘণ্টার সরাসরি অনুষ্ঠান হবে, যা রাজধানী থেকে তাঁর তিন দিনের সম্প্রচারের অংশ।
জোন্স বলেন, ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোকে আগের নির্বাচনী চক্রগুলোর চেয়ে বেশি প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর ভাষায়, বোর্ডের সামনে একজন উপস্থাপক আর পর্দার নিচে স্ক্রল থাকলেই দর্শক এমনিতেই চলে আসবে — এই ধারণা এবারের চক্রে আর নিশ্চিত নয়। তাঁর কোম্পানির সম্প্রচারের লক্ষ্য থাকবে বড় চিত্র ও মূল বার্তাগুলো তুলে ধরা, কারণ রাত শেষে দর্শক জানতে চান চূড়ান্ত ফল কোন দিকে গেল।
অভিজ্ঞ প্রতিবেদক স্কট ম্যাকফারলেন মার্চে ‘কিছুটা স্বাধীনতা’ চেয়ে সিবিএস নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি প্রগতিশীল মিডাসটাচ নেটওয়ার্কে প্রধান ওয়াশিংটন প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিয়েছেন এবং এর সরাসরি নির্বাচনী সম্প্রচারের সহ-সঞ্চালক হচ্ছেন। ম্যাকফারলেন বলেন, এই স্ট্রিমিং অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন সম্প্রচারের জাঁকজমক থাকবে না — কোনো টেলিপ্রম্পটার বা চিত্রনাট্য নেই; এটি হবে সরাসরি, কথোপকথনধর্মী এবং মূল প্রতিবেদনভিত্তিক। নাটকীয় আবহসংগীত ও নাটকীয় উপস্থাপনা এই মুহূর্তের সঙ্গে মানানসই নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে কোটি কোটি আমেরিকান এবারও ঐতিহ্যবাহী টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বা সেগুলোর স্ট্রিমিং শাখা থেকেই নির্বাচনের খবর রাখবেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের রাতে আনুমানিক ৪ কোটি ২৩ লাখ দর্শক টেলিভিশন প্রচার দেখেছিলেন, যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ছাড়া বছরগুলোতে দর্শকসংখ্যা কম থাকে। এনবিসি নিউজের উপস্থাপক হ্যালি জ্যাকসন নয় ঘণ্টার সরাসরি প্রচারের জন্য নির্ধারিত আছেন; ডেস্কে থাকছেন সাভানা গাথরি, টম লামাস ও ক্রিস্টেন ওয়েলকার, সঙ্গে করন্যাকি। জ্যাকসন বলেন, এনবিসি নিউজের গভীরতা, পরিসর ও ব্যাপ্তির সঙ্গে তুলনীয় জায়গা আর নেই।
এবিসি নিউজ লাইভ ও স্পেশালাইজড ইউনিটসের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেনি টিয়েনাবেসো জানান, নেটওয়ার্কটি সাত ঘণ্টার সম্প্রচারের পরিকল্পনা করেছে, তবে সিনেট বা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফল ঝুলে থাকলে সম্প্রচার আরও দীর্ঘ হতে পারে। এবিসি নিউজ ফলাফলের জন্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য এবং জরিপ সংস্থা এসএসআরএসের নতুন ভোটার জরিপের ওপর নির্ভর করে। টিয়েনাবেসো বলেন, সিদ্ধান্ত নেওয়া ডেস্কটি বাকি নিউজরুম থেকে আলাদা থাকে এবং প্রতিদ্বন্দ্বীরা কী করছে সেদিকে তারা মনোযোগ দেয় না; বিশ্লেষণে স্বস্তি এলেই তারা ফল ঘোষণা করে।
মঙ্গলবার সিএনএনের দর্শকরা নেটওয়ার্কটির ডিসিশন ডেস্ককে সরাসরি কাজ করতে দেখতে পাবেন এবং পাবেন ‘সিএনএন সাইটলাইন’ নামের নতুন একটি টুল, যা তথ্য ও জনমিতির ভিত্তিতে কোনো আসনের হাওয়া কোন দিকে যাচ্ছে তার ধারণা দেবে। সিএনএনের রাজনৈতিক পরিচালক ও ওয়াশিংটন ব্যুরো প্রধান ডেভিড চ্যালিয়ান বলেন, এতে স্বচ্ছতা সম্ভবত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি থাকবে। সিএনএনের ডিসিশন ডেস্ক কোনো প্রার্থীর জয় সম্পর্কে অন্তত ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ নিশ্চিত হলেই ফল ঘোষণা করে; তাঁর ভাষায়, গতির বিষয়টি এর মধ্যে একেবারেই নেই।
কেবল নেটওয়ার্ক নিউজনেশনের রাজনৈতিক সম্পাদক ক্রিস স্টায়ারওয়াল্ট ২০২১ সালে ফক্স নিউজ ছাড়ার আগে কয়েকটি নির্বাচনী চক্রে সেখানকার ডিসিশন ডেস্কে ছিলেন। তিনি বলেন, ওহাইওর প্রাথমিক ফল দেখলেই বোঝা যাবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় জয়ের ঢেউ আসছে কি না, এবং তাঁর ধারণা ফলাফলে রিপাবলিকানরা খুশি হবেন না। অ্যাকোস্টা বলেন, সিএনএনকে তিনি মিস করেন না; ক্রিয়েটর-চালিত মিডিয়ায় একেবারে শুরু থেকে কিছু গড়ে তোলাতেই তাঁর আনন্দ।




