কূটনৈতিক সমঝোতার ইঙ্গিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমল, ব্রেন্ট নেমে এল ১০৯ ডলার ৮০ সেন্টে
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক সমঝোতার পথ সুগম হওয়ার সম্ভাবনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে লেনদেনের শুরু থেকেই অপরিশোধিত তেলের দুই প্রধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামে স্পষ্ট পতন দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও জ্বালানি বিষয়ক পোর্টাল অয়েলপ্রাইস ডটকমের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সোমবার দুপুরের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ৮০ সেন্টে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার নির্ধারণী ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ৫০ সেন্টে দাঁড়ায়।
এর আগে গত অক্টোবরে আঞ্চলিক সংঘাতের তীব্রতায় বিশ্ববাজারে তেলের দর গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় উঠেছিল। ৩০ অক্টোবর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৮ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। সামগ্রিকভাবে গত মাসটিতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ১৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছিল।
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক অভিযানের শঙ্কা তৈরি হওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের বাজার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। তবে কাতারের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ইতিবাচক ইঙ্গিতে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরেছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেসিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার রয়টার্সকে জানান, আগের সপ্তাহে অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পর বর্তমান দরপতনকে একটি যৌক্তিক বাজার সংশোধন হিসেবে দেখা যায়। তবে সংঘাতের বিষয়ে ওয়াশিংটন যদি পুনরায় আগ্রাসী অবস্থান নেয়, তবে তেলের দাম ফের ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার স্পর্শ করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দর আরও অনিয়ন্ত্রিত না হওয়ার পেছনে চীনের অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমে যাওয়া বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শ্লথগতির পাশাপাশি দেশটিতে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) ব্যবহার বিপুল হারে বাড়ায় জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা সংকুচিত হয়েছে।
সমঝোতার অগ্রগতি নিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, কাতারের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে চলেছে। একই সঙ্গে তেহরান কূটনীতি কিংবা জাতীয় প্রতিরক্ষা—উভয় পরিস্থিতির জন্যই পূর্ণ প্রস্তুতি বজায় রেখেছে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে বিদ্যমান ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষিতে ডিসেম্বর মাসে জ্বালানি তেল উৎপাদনের বিদ্যমান লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর আন্তর্জাতিক জোট ওপেক প্লাস। সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ জোটের সাতটি প্রধান অংশীদার দেশের বৈঠকে এই সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়।
আগামী ২৯ নভেম্বর ওপেক প্লাসের পরবর্তী বৈঠকে ২০২৭ সালের তেল উৎপাদন ও কোটা বণ্টন নিয়ে নতুন পর্যালোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

