শ্রমিক অসন্তোষের প্রভাবে পুঁজিবাজারে বড় দরপতন, ডিএসইএক্স নামল ৫১ পয়েন্ট
শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের পুঁজিবাজারে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সোমবার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)—উভয় বাজারেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর কমার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচকে বড় পতন দেখা গেছে। শেয়ার বিক্রির ব্যাপক চাপের কারণে ডিএসইতে মোট লেনদেনের গতিও সংকুচিত হয়েছে। তবে দরপতনের মাঝেও ব্যতিক্রম ছিল বস্ত্র খাত, যেখানে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিন ধরে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তুলেছে। আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল এই বাজারে অস্থিতিশীল পরিবেশ দ্রুত নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, যা আজ তীব্র বিক্রয়চাপের রূপ নিয়েছে।
দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৮৬টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে, বিপরীতে দর হারিয়েছে ২৪৯টি এবং অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির বাজারদর। বস্ত্র খাতের ২৭টি প্রতিষ্ঠানের দাম বাড়ার বিপরীতে ২০টির কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত থাকে।
ভালো কোম্পানি বা ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২৭টির দর বাড়লেও কমেছে ১৫৫টির দাম। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রে ৩৩টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে ৩০টির পতন ঘটেছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপের ২৬টি কোম্পানির দাম বাড়লেও ৬৩টির দরপতন হয়েছে এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ২৭টির দর কমার বিপরীতে মাত্র একটির দাম বেড়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য হারানোর ফলে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট হারিয়ে ৫ হাজার ৩৩৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। শীর্ষ ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ২৬ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৪২ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৭ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।
সূচকের নিম্নমুখিতার পাশাপাশি ডিএসইতে দৈনিক লেনদেন নেমে এসেছে ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকায়, যা আগের কার্যদিবসের ৪৮২ কোটি ১৯ লাখ টাকার তুলনায় ৬৪ কোটি ১ লাখ টাকা কম।
বাজারের পরিস্থিতি নিয়ে ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের সরাসরি প্রভাব পুঁজিবাজারে এসে পড়েছে। বর্তমান প্রশাসনের আট মাসের মাথায় এত বড় মাত্রার শ্রম অসন্তোষ অপ্রত্যাশিত ছিল, যদিও শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। রাজধানীজুড়ে এমন অস্থিরতায় জনমনে সৃষ্ট আতঙ্ক বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলা অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকিং খাত থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ উত্তোলনে জটিলতা মানুষকে নগদ টাকা ধরে রাখতে বাধ্য করছে। তরল অর্থের সংস্থান করতে অনেকেই বাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করছেন, যার ফলে অতিরিক্ত বিক্রয়চাপ তৈরি হয়ে দরপতন ত্বরান্বিত হয়েছে।
এদিন ডিএসইতে একক লেনদেনে শীর্ষে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল, যার মোট ১৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের লেনদেন হয়েছে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার এবং ১১ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল নিয়ে তৃতীয় ছিল ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল এনভয় টেক্সটাইল, ব্র্যাক ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, নাহি অ্যালুমেনিয়াম ও সায়হাম টেক্সটাইল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে অংশ নেওয়া ১৮২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৬টির দাম বাড়লেও দর হারিয়েছে ৮৭টি। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১০৪ পয়েন্ট হ্রাস পেয়েছে এবং মোট লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকায়।


