লালদিয়া টার্মিনালের কাজে গতি আনতে বাংলাদেশ-ডেনমার্ক যৌথ ওয়ার্কিং টিমের প্রস্তাব

চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পের কাজে গতি আনতে বাংলাদেশ ও ডেনমার্কের একটি যৌথ ওয়ার্কিং টিম গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের বৈঠকে এ প্রস্তাব আসে।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। বৈঠকে দুই দেশের বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানো, টেকসই অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাত, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয় বলে ইনভেস্ট বাংলাদেশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রকল্পের কাজ গতিশীল করতে দুই পক্ষের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণ হচ্ছে। এপিএম টার্মিনালস ডেনিশ শিপিং প্রতিষ্ঠান মার্স্ক গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এপিএম টার্মিনালসের এই চুক্তি সই হয়। চুক্তির মেয়াদ ৩৩ বছর — এর মধ্যে তিন বছর নির্মাণকাজের জন্য, বাকি ৩০ বছর টার্মিনাল পরিচালনার জন্য; শর্ত পূরণ হলে মেয়াদ আরও ১৫ বছর বাড়ানো যাবে। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অর্থায়নে টার্মিনালের নকশা, নির্মাণ ও পরিচালনা করবে; এতে বিনিয়োগ হবে ৫৫ কোটি ডলারের বেশি। দেশের বন্দর খাতে বিদেশি বিনিয়োগে এটিই প্রথম নতুন টার্মিনাল প্রকল্প। চলতি বছরের ২২ এপ্রিল প্রকল্পের জায়গা এপিএম টার্মিনালসকে বুঝিয়ে দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০৩০ সালে টার্মিনালটি চালুর লক্ষ্য রয়েছে।
বৈঠকে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানির (কাফকো) কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত কাফকো দেশের অন্যতম বড় যৌথ বিনিয়োগের সার কারখানা; বাংলাদেশ, জাপান, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কারখানাটি ১৯৯৪ সালে উৎপাদনে আসে, যেখানে ডেনমার্কের হালডর টপসো ও ডেনিশ তহবিল আইএফইউ অংশীদার। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ডেনমার্কের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগানো নিয়েও আলোচনা হয়; নোয়াখালীর স্বর্ণদ্বীপের সম্ভাবনার প্রসঙ্গও বৈঠকে ওঠে।
বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি ও শিল্পসম্পদে বিনিয়োগের জন্য ডেনিশ বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ — বিশেষ করে যেসব জায়গায় আগে চিনিকলসহ শিল্পকারখানা ছিল বা এখনো আছে। লোকসানের কারণে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের ১৫টি চিনিকলের মধ্যে ৬টিতে আখমাড়াই বন্ধ করে দেওয়া হয়; এসব কারখানার জমি ও অবকাঠামোর বড় অংশ এখন অব্যবহৃত পড়ে আছে। আগ্রহী ডেনিশ বিনিয়োগকারীরা নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিলে ইনভেস্ট বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বলে জানানো হয়।
খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে দুই দেশের সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয় বৈঠকে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট-১ বিভাগের মহাপরিচালক জুলিয়া মইন উত্তরাঞ্চলে এ শিল্পের সম্ভাবনার কথা বলেন; তিনি মৌসুমি কৃষিপণ্যভিত্তিক শিল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং হিমাগার অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা বলেন, পাশাপাশি ফল থেকে পানীয় ও খাদ্যপণ্য তৈরির সুযোগের কথাও তুলে ধরেন।




