আবাসন খাতের মন্দায় যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ইট প্রস্তুতকারকের বিক্রি কমল পঞ্চমাংশের বেশি, উৎপাদনও ছাঁটাই

গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় ইট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ইবস্টকের বিক্রি পঞ্চমাংশের বেশি কমে গেছে। আবাসন খাতের জন্য সরকার দ্রুত নতুন সহায়তা না আনায় প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সমালোচনা করেছে।
লেস্টারশায়ারভিত্তিক ইবস্টক সোমবার জানিয়েছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে তাদের বিক্রি প্রত্যাশার চেয়ে ২২ শতাংশ কম হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদনের মাত্রা পঞ্চমাংশ কমিয়ে দিয়েছে।
ইবস্টক এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো মুনাফা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাজ্যের ইটের বাজারের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ কমেছে, এবং সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে দুর্বল বাজার পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।
ইবস্টকের প্রধান নির্বাহী জো হাডসন বলেন, 'তৃতীয় প্রান্তিকে লেনদেনের পরিস্থিতির তীব্র অবনতি ঘটেছে, দুর্বলতা অক্টোবরেও অব্যাহত রয়েছে। আমরা মজুত সামলাতে উৎপাদন কমিয়ে জবাব দিয়েছি, আরও ব্যয় ছাঁটাই করেছি এবং নগদ অর্থের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ রেখেছি। এই উৎপাদন সিদ্ধান্তগুলো স্বল্পমেয়াদে আয়ে বাড়তি চাপ তৈরি করলেও চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন মেলাতে এগুলো জরুরি।'
প্রতিষ্ঠানটি এখন আশা করছে, পুরো বছরের মুনাফা আগের প্রত্যাশার চেয়ে 'উল্লেখযোগ্যভাবে কম' হবে। ইবস্টক জানিয়েছে, মুনাফা থাকতে পারে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের মাঝামাঝি পর্যায়ে, যেখানে বিশ্লেষকদের আগের ঐকমত্য ছিল ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ড।
এই সতর্কবার্তা এল এমন সময়ের কয়েক দিন পর, যখন অফিস ফর বাজেট রেসপন্সিবিলিটি ২০৩১ সালের মধ্যে নির্মিত নতুন বাড়ির সংখ্যার পূর্বাভাস ১ লাখ ৯০ হাজার কমিয়ে দিয়েছে।
আবাসনমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার বলেছেন, এই সংসদের মেয়াদে ১৫ লাখ নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য সরকার পূরণ করতে পারবে, এমন সম্ভাবনা 'খুবই কম'। অনুমান করা হচ্ছে, লক্ষ্যটি তিন ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত পিছিয়ে যেতে পারে।
সোমবার লন্ডনের শেয়ারবাজারে ইবস্টকের শেয়ারের দাম সর্বোচ্চ ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, এদিন বাজারে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় পতন। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য অর্ধেক হয়ে ২৭৭ মিলিয়ন পাউন্ডে নেমেছে।
ইংল্যান্ডে প্রথমবারের ক্রেতাদের মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ জমা দিয়ে নতুন বাড়ি কিনতে সহায়তার জন্য তৈরি 'ইয়োর ফার্স্ট হোম' সহায়তা প্রকল্পের শুরু পিছিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেছে ইবস্টক। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রকল্পটি যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারের জন্য স্বাগতযোগ্য ও অর্থবহ হস্তক্ষেপ হতে পারে, তবে এর শুরু ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হতাশাজনক এবং স্বল্পমেয়াদি চাহিদার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
পিল হান্টের বিশ্লেষক ক্লাইড লুইস ও স্যাম কালেন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে এক নোটে বলেছেন, 'ইবস্টকের মতো দেশীয় বাজারের ওপর নির্ভরশীল নির্মাণ শেয়ারগুলো খুবই চ্যালেঞ্জিং শিল্প পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। নতুন ইয়োর ফার্স্ট হোম কর্মসূচি আগামী বছর সামান্য সহায়ক হওয়া উচিত, তবে খাতের কার্যক্রম ও শেয়ারের দাম ঘুরে দাঁড়াতে সুদের হার কমানোই মূল বিষয়।'




